নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দলীয় শৃঙ্খলা সকলকেই মেনে চলতে হবে। যিনি যত বড় নেতাই হোন না কেন, এই নির্দেশ সকলের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য। সম্প্রতি এই বার্তাই স্পষ্ট করে দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
দল বিরোধী কাজের অভিযোগে কয়েকজন জনপ্রতিনিধিকে ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড কিংবা বহিষ্কার পর্যন্ত করা হয়েছে। তার ভিতরে এবার দলের শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির প্রশ্নের মুখে পড়তে চলেছেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবির। সম্প্রতি একটি সম্প্রদায়কে কেন্দ্র করে বিরোধী দলনেতা কিছু আপত্তিকর মন্তব্য করেন। তার পাল্টা হিসেবে হুমায়ুনের বক্তব্যে অবাঞ্ছিত বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুনের বক্তব্যকে দল ভালোভাবে নেয়নি। বিধায়কদের নিয়ে তৈরি শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি হুমায়ুনকে শোকজ করেছিল। তার দু’পাতার লিখিত উত্তর জমা দিয়েছিলেন হুমায়ুন। কিন্তু তাঁর সেই জবাবে সন্তুষ্ট নয় শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি। তাই কমিটির কাছে আজ, মঙ্গলবার সশরীরে হুমায়ুনকে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির তরফে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় জানান, হুমায়ুনকে ডেকে তাঁর কাছে বেশকিছু বিষয় জিজ্ঞাসা করা হবে। তাঁকে একাধিক নির্দেশও দেওয়া হবে তার প্রেক্ষিতে। হুমায়ুন যে বক্তব্য ‘ব্যক্তিগতভাবে’ বলার চেষ্টা করছেন, তা দলের আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিধায়ক হলেও ব্যক্তিগতভাবে তিনি ওই ধরনের মন্তব্য করতে পারেন না। তাই তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক অতীতে হুমায়ুনকে পরপর দু’বার শোকজ করা হয়। আর এবার শৃঙ্খলা কমিটিও ডেকে পাঠাল তাঁকে। এই অবস্থানের মধ্য দিয়ে তৃণমূল এটা স্পষ্ট করে দিচ্ছে, যে বা যাঁরা বিতর্কিত মন্তব্য করবেন বা দলকে অস্বস্তিতে ফেলবেন, তাঁদের কোনও অবস্থাতেই রেয়াত করা হবে না। রাজনৈতিক মহলের পর্যবেক্ষণ, যে ইস্যুতে তৃণমূল কঠোর অবস্থান নিতে পারছে, একই কারণে বিজেপি কিন্তু উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে পারছে না। এখানেই প্রশ্ন তাদের, যেসব বিজেপি নেতা বিতর্কিত মন্তব্য করছেন বা বিভাজন তৈরি করছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না?