


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: কলকাতা বন্দরের বলাগড় প্রকল্প নিয়ে রাজ্যসভায় তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ। প্রশ্নোত্তর পর্বে বঙ্গ বিজেপির সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ এবং জলপথ মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর বলেন, এব্যাপারে রাজ্য সরকার কোনোরকম সহযোগিতা করছে না। বরং রাজ্যের মদতেই কলকাতা বন্দরের বহু জমি জবরদখল হয়ে রয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মন্তব্যের প্রতিবাদে তুমুল বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তৃণমূল সাংসদরা। নিজের আসন ছেড়ে এগিয়ে আসেন তাঁরা। মঙ্গলবারের এই ঘটনায় রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণন তাঁদের নিজের আসনে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেন।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল যে, প্রশ্নোত্তর পর্বে রাজ্যের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ কেন্দ্রের মোদি সরকার তুলেছে ঠিকই। কিন্তু এসংক্রান্ত যে লিখিত জবাব দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল, সেখানে তার উল্লেখমাত্র করা হয়নি। বরং তিনি জানিয়েছেন যে, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের জন্য পর্যাপ্ত জমি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পোর্ট অথরিটির (এসএমপিএ) কাছে রয়েছে। সেক্ষেত্রে রাজ্যসভায় প্রশ্নোত্তর পর্বে ওই মন্ত্রকেরই রাষ্ট্রমন্ত্রী শান্তনুবাবুর রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগের ভিত্তি কী, তা নিয়ে সঙ্গত কারণেই ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। এবিষয়ে বিজেপি সূত্রে ব্যাখ্যা, রাষ্ট্রমন্ত্রী বলাগড় প্রকল্পের ক্ষেত্রে জমি জটের উল্লেখ করেননি। কারণ এক্ষেত্রে জমির সমস্যা নেই। এই প্রকল্পে কলকাতা বন্দরের কাছে প্রায় ৩০০ একর জমি রয়েছে।
বিজেপি সূত্রের ব্যাখ্যা, সার্বিকভাবে কলকাতায় এহেন প্রায় ১৭০ একর জমি জবরদখল হয়ে রয়েছে। কিন্তু তা জবরদখলমুক্ত করতে রাজ্য কোনো সহযোগিতা করছে না। তবে সংশ্লিষ্ট লিখিত জবাবে সামগ্রিকভাবে পোর্টের জমি জবরদখলের উল্লেখ নেই। প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে জমি জটের অভিযোগে সরব হয়েছে বিজেপি। রাজ্য সরকার জমি দিতে না পারার কারণেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করা যাচ্ছে না, এমন অভিযোগ বারবার করেছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।