


আমেদাবাদ: গুজরাতে বিজেপির আদিবাসী জনভিত্তিতে বড়সড় ধস! দলের মধ্যে তাঁদের কোনো গুরুত্ব নেই। আদিবাসীদের ক্রমশ কোণঠাসা করা হচ্ছে। এই অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার কংগ্রেসে যোগ দিলেন গুজরাত বিজেপির বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী আদিবাসী নেতা। এদিন দাহোদে রাজীব গান্ধী ভবনে তাঁরা কংগ্রেসের পতাকা হাতে তুলে নেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন জেলা পঞ্চায়েত সদস্য মহেশভাই মাচ্চর এবং প্রাক্তন সরপঞ্চ জয়ন্তীভাই। আদিবাসীদের সমস্যাগুলিকে যেভাবে উপেক্ষা করা হচ্ছে, তাতে অসন্তুষ্ট হয়েই এই দলত্যাগ বলে জানিয়েছেন তাঁরা। মহেশভাই মাচ্চর বলেন, ‘বিজেপির মন্ত্রীদের দুর্নীতি এবং আদিবাসীদের প্রতি অবহেলা দেখতে দেখতে আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। আমাদের সমাজের সমস্যার যথাযথ সমাধানে আমরা কংগ্রেসের মতাদর্শকে বেছে নিলাম।’ তাঁদের স্বাগত জানিয়ে কংগ্রেসের মিডিয়া কনভেনর মণীশ দোশি বলেন, ‘জঙ্গলের অধিকার, শিক্ষা এবং কর্মসংস্থান থেকে বিজেপি ক্রমশ আদিবাসীদের বঞ্চিত করে আসছে।’ তাঁর আরও অভিযোগ, আদিবাসীদের ধোঁকা দিতে তাঁদের কল্যাণের জন্য ছোটা উদয়পুরে একটি ভুয়ো অফিস খোলা হয়। আদিবাসী কল্যাণের টাকা অন্যত্র কাজে লাগিয়েছে বিজেপি সরকার।
২০২৭ সালে বিধানসভা নির্বাচন গুজরাতে। এই অবস্থায় নীচুস্তরে জনভিত্তি বাড়াতে ‘ঘরে ঘরে আলোচনা’ কর্মসূচি নিয়েছে কংগ্রেস। মানুষের সঙ্গে আলোচনা করে অভাব-অভিযোগ জেনে স্থানীয় স্তরে ‘কমিটমেন্ট ডকুমেন্ট’ প্রকাশ করেছে কংগ্রেস। নবসারিতে এরকমই একটি অভিনব ডকুমেন্ট নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে রাজ্যজুড়ে। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘দেশের ইতিহাসে এই প্রথম জনগণের থেকে অভাব-অভিযোগ জেনে নিয়ে ইস্তাহার প্রকাশ করা হয়েছে। মানুষের কণ্ঠস্বরকে গুরুত্ব দেওয়ার এই চিন্তা অভিনব।’ এতে রাস্তা নিয়ে ‘জনতা অডিট’-এর কথা বলা হয়েছে। ঠিকাদার সংস্থাকেই রাস্তার গুণমান বজায় রাখার দায়িত্ব নিতে হবে বলে তাতে জানানো হয়েছে। এছাড়া ওয়ার্ড স্তরে ২৪ ঘণ্টা স্বাস্থ্যকেন্দ্র খোলা রাখা, মহিলাদের বাসযাত্রা বিনামূল্যে করার কথা বলা হয়েছে।