Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গাছ ছেয়েছে মুকুলে, হুগলিতে আমের প্রচুর ফলনের আশায় খুশি কৃষক মহল

হুগলিজুড়ে আমের গাছে ব্যাপক মুকুল। এমনিতেই এবছর অধিক ফলন বর্ষ তার উপর কুয়াশার দাপট তেমনভাবে না থাকায় মুকুলে মুকুলে ভরে গিয়েছে বিভিন্ন বাগান। এর ফলে ফলের রাজাকে সস্তায় হাতে পাওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।

গাছ ছেয়েছে মুকুলে, হুগলিতে আমের প্রচুর ফলনের আশায় খুশি কৃষক মহল
  • ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: হুগলিজুড়ে আমের গাছে ব্যাপক মুকুল। এমনিতেই এবছর অধিক ফলন বর্ষ তার উপর কুয়াশার দাপট তেমনভাবে না থাকায় মুকুলে মুকুলে ভরে গিয়েছে বিভিন্ন বাগান। এর ফলে ফলের রাজাকে সস্তায় হাতে পাওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। 

Advertisement

ফেব্রুয়ারির শেষ পর্বে এসে মুকুলের গতিপ্রকৃতি দেখে বিশেষজ্ঞদের অনুমান, অন্তত ৩৭ হাজার মেট্রিক টন আম হুগলি জেলায় উৎপাদিত হবে। এই অনুমানভিত্তিক সংখ্যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দু’হাজর মেট্রিক টন বেশি। আমের মুকুলের গতিপ্রকৃতি দেখে উৎসাহ ছড়িয়েছে আম চাষিদের মধ্যে। তবে কিছু আশঙ্কাও আছে। আবহাওয়ার মতিগতি ভালো নয়। দিনকয়েক আগেই হয়েছে অকাল বৃষ্টি। এই পরিস্থিতিতে উচ্চ ফলনের সম্ভাবনা ধরে রাখতে সতর্কবার্তা জারি করেছে রাজ্যের উদ্যানপালন দপ্তর। 
হুগলি জেলা উদ্যানপালন আধিকারিক শুভদীপ নাথ বলেন, ‘জেলাজুড়ে আমগাছে ব্যাপক মুকুল এসেছে। মুকুল আসার পর্বে আবহাওয়া ছিল ভালো। এবছর উচ্চফলনের সম্ভাবনা। স্বাভাবিকের থেকে প্রায় দু’হাজার মেট্রিক টন বেশি ফলন আশা করছি।’ তিনি জানান, ফলন ভালো রাখতে একাধিক পরামর্শ দিচ্ছেন। তাছাড়া সতর্কবার্তা চাষিদের দেওয়া হয়েছে। ছত্রাক আটকাতে কীটনাশক ছড়ানোর বিষয়ে চাষিদের বলা হয়েছে। দপ্তরের তরফেও সার্বিক নজরদারি রাখা হচ্ছে। হুগলি জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ মদনমোহন কোলে বলেন, ‘আমের ফলন যত বেশি হবে তত সস্তায় আম পাবেন নাগরিকরা। তাই উচ্চফলনের জন্য যাবতীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। হুগলির নিজস্ব প্রজাতির আম ইতিমধ্যেই রাজ্য তথা দেশের বাজারে বিশেষ নাম করেছে। গতবছর দিল্লির আম মেলাতে এই জেলার আম বিশেষ প্রশংসা পেয়েছে। সেই সুনাম ধরে রাখার জন্যও নেওয়া হবে উদ্যোগ।’
এ রাজ্যে মালদহ, মুর্শিদাবাদ বা নদীয়ার মতো না হলেও হুগলি জেলার আমের নাম আছে। হুগলির ল্যাংড়া বা হিমসাগরের ভালো বিক্রি আছে। আবার, ‘সরি’ নামে বিশেষ ধরনের আম হয়। এটি স্থানীয় প্রজাতির আম। সেটিও স্থানীয় বাজারে বেশ জনপ্রিয়। জেলাজুড়ে প্রায় ৭ হাজার ৪৬৮ হেক্টর জমিতে আমচাষ হয়। গতবছর প্রায় ৩৫ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদন হয়েছিল। কৃষকদের দাবি, কৃষিপ্রযুক্তির উন্নতির কারণে কম ফলন বর্ষেও এখন ভালো ফলন হয়। এবার একদিকে অধিক ফলনবর্ষ এবং সেই সঙ্গে মনোরম আবহাওয়ায় আম গাছ মুকুলে ছেয়ে গিয়েছে। নিজস্ব ও সংকর প্রজাতি সহ সব ক্ষেত্রেই মুকুলের বাড়াবাড়ি রকমের আনাগোনা চাষি ও উদ্যানপালন দপ্তরের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। পাশাপাশি অধিক ফলনের সম্ভাবনায় নাগরিকরাও খুশি।  নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ