


দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: কলকাতা হোক কিংবা দিল্লি। পরবর্তী দু’সপ্তাহেরও বেশি সময় উত্তরবঙ্গগামী একাধিক মেল, এক্সপ্রেস ট্রেনে কোনো টিকিটই পাওয়া যাচ্ছে না। বহু ক্ষেত্রেই আসছে ‘রিগ্রেট’ বার্তা। অর্থাৎ, আর কোনো আসন নেই। এর ফলে প্রথম পর্যায়ে উত্তরবঙ্গে ভোট দিতে যেতেই চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে ভিন রাজ্য অথবা শহরে কর্মরত কিংবা পড়ুয়াদের। ভোটের কথা মাথায় রেখে উত্তরবঙ্গগামী স্পেশাল ট্রেন চালানোর দাবিও উঠতে শুরু করেছে।
আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দু’দফায় বিধানসভা নির্বাচন হবে পশ্চিমবঙ্গে। প্রথম পর্যায়ে রাজ্যের ১৫২টি কেন্দ্রে এবং দ্বিতীয় ধাপে ১৪২টি আসনে ভোট হবে। উত্তরবঙ্গের সবক’টি আসনেই ভোট হবে ২৩ এপ্রিল। অর্থাৎ, প্রথম পর্যায়ে। আর সেই ভোট দিতে যাওয়ার পরিকল্পনাতেই ঘটছে বিপত্তি। নির্বাচন ঘোষণার পর থেকে রাজ্যে বিভিন্ন প্রচার, সমাবেশে তৃণমূল কংগ্রেস অভিযোগ করছে, ভিন রাজ্যে থাকা শ্রমিক-কর্মচারীরা যাতে ভোট দিতে বাংলায় আসতে না পারেন, সেই উদ্দেশ্যে নানারকম কৌশল আঁটছে গেরুয়া শিবির।
কলকাতা থেকে উত্তরবঙ্গ যাওয়ার ট্রেনগুলির মধ্যে পদাতিক এক্সপ্রেস, উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস, দার্জিলিং মেল, তিস্তা তোর্সা এক্সপ্রেস, কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস, কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস, সরাইঘাট এক্সপ্রেস, কামরূপ এক্সপ্রেস অন্যতম। চলে গুয়াহাটি এক্সপ্রেস কিংবা বন্দে ভারত। হালে চালু হয়েছে বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস ট্রেনও। কিছু ক্ষেত্রে চেয়ার কার-যুক্ত বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনগুলিতে টিকিট মিললেও অন্যান্য মেল, এক্সপ্রেসে দুর্বিষহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। স্লিপার ক্লাস, থার্ড এসি, সেকেন্ড এসির মতো কোনো কোচেই ‘কনফার্মড’ টিকিট মিলছে না। একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস ট্রেনেও। প্রতিটি ক্ষেত্রেই ওয়েটিং লিস্টের তালিকা ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে। একইভাবে দিল্লি থেকে উত্তরবঙ্গগামী গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনগুলির মধ্যে রয়েছে ডিব্রুগড় রাজধানী এক্সপ্রেস, নর্থ ইস্ট এক্সপ্রেস, মহানন্দা এক্সপ্রেসের মতো কিছু ট্রেন। অধিকাংশ ট্রেনেই ওয়েটিং লিস্টের তালিকা ১০০-এরও বেশি। শিলিগুড়ি ছাড়িয়ে কোচবিহার পর্যন্ত টিকিট কাটতে চাইলে ডিব্রুগড় রাজধানী এক্সপ্রেসে ‘রিগ্রেট’ মেসেজ দেখানো হচ্ছে। ক্ষুব্ধ রেল যাত্রীদের একটি বড়ো অংশের অভিযোগ, নির্বাচন তো কয়েকদিনের ব্যাপার। উত্তরবঙ্গগামী বহু ট্রেনেই অন্তত জুনের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত কনফার্মড টিকিট নেই। এব্যাপারে রেলমন্ত্রকের শীর্ষ সূত্রে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, এর সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। গ্রীষ্মাবকাশে এমনিতেই উত্তরবঙ্গে যাওয়ার জন্য ‘রাশ’ থাকে। এক্ষেত্রেও সম্ভবত তাই হচ্ছে।