


ভুবনেশ্বর: ওড়িশায় মাওবাদী সংগঠনে ফাটল আরও চওড়া হল। রবিবার কালাহান্ডিতে দলবল নিয়ে আত্মসমর্পণ করলেন ডিভিশনাল কমিটি মেম্বার (ডিসিএম) নকুল। এদিন ওড়িশার ডিরেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (ডিজিপি) ওয়াই বি খুরানিয়ার কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন তিনি। পুলিশ জানিয়েছে, আদতে মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা নকুল ছিলেন মাওবাদীদের ওড়িশা শাখার প্রথম সারির নেতা। তাঁর মাথার দাম ছিল ২২ লক্ষ টাকা। এছাড়াও এদিন ধরা দিয়েছেন ১০ জন মাওবাদী স্কোয়াড মেম্বার। এঁদের মধ্যে পাঁচজন এরিয়া কমিটি মেম্বার এবং পাঁচজন সাধারণ সদস্য। এঁদের ধরিয়ে দিতে পারলে ৬৩ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা পুরষ্কার ঘোষণা করেছিল পুলিশ।
এদিন মাওবাদীরা একটি একে-৪৭ রাইফেল, একটি ইন্ডিয়ান স্মল আর্মস সিস্টেম (ইনসাস) রাইফেল, চারটি সেল্ফ লোডিং রাইফেলস (এসএলআর), চারটি সিঙ্গল শটস ফায়ার আর্মস এবং একটি ১২ বোরের বন্দুক জমা দিয়েছেন। এছাড়াও প্রচুর গোলাবারুদও পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন তাঁরা। ডিজিপি খুরনা বলেন, মাওবাদীদের এই দলটি কালাহান্ডির বসধরা-গুমসর-নাগাবলি এলাকায় সক্রিয় ছিল। নকুল ছাড়া বাকিদের বাড়ি ছত্তিশগড়ে।
ভবানীপাটনা শহরের রিজার্ভ পুলিশ লাইনে আত্মসমর্পণ উপলক্ষ্যে এক অনুষ্ঠানে খুরানা বলেন, ‘এলাকায় মাওবাদীরা যে ক্রমশ দুর্বল হচ্ছে, এই আত্মসমর্পণেই তা প্রমাণিত।’ অন্যদিকে, এডিজি (অ্যান্টি নক্সাল অপারেশনস) সঞ্জীব পান্ডা বলেন, এই আত্মসমর্পণের সঙ্গে সঙ্গেই এলাকায় সক্রিয় সশস্ত্র মাওবাদীর সংখ্যা কমে দাঁড়াল ১৫ জন। ওড়িশা সরকারের ক্ষতিপূরণ নীতি মেনে এঁরা ১ কোটি ২৩ লক্ষ টাকা পাবেন। এছাড়া অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা হিসেবে পাবেন ৬০ লক্ষ টাকা।