নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা কবে ঢুকবে তা এখনও অনিশ্চিত। তবে আগামী কয়েকদিন রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন জেলায় বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে ঝড়বৃষ্টি এবং কোনও কোনও জায়গায় ভারী বৃষ্টি হবে। জানাচ্ছে আবহাওয়া দপ্তর। শনিবার উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে অতিভারী বৃষ্টিও হতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের অনেকগুলি জেলায় সোম-মঙ্গলবার ভারী বৃষ্টির পূর্বভাস রয়েছে। দখিনা বাতাস এখন সক্রিয়। তার সঙ্গে বঙ্গোপসাগর থেকে বেশি মাত্রায় জলীয় বাষ্প প্রবেশ করার জন্য বৃষ্টি বৃদ্ধি পাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার খুব বেশি না-হলেও ভ্যাপসা গরমে জেরবার হতে হয়েছে বাতাসে অধিক পরিমাণে জলীয় বাষ্প থাকার জন্য। এদিন কলকাতায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা (৩৪.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস) স্বাভাবিকের থেকে সামান্য কম ছিল। পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে অবশ্য সর্বোচ্চ তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে কিছুটা বেশি (৩৬-৩৮ ডিগ্রির আশপাশে) ছিল। দক্ষিণবঙ্গের কোনও জেলার জন্য তাপপ্রবাহের সতর্কতা নেই।
কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর ইতিমধ্যে জানিয়েছেন, খুব তাড়াতাড়ি ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্রের বিদর্ভ ও ওড়িশার কিছু এলাকায় বর্ষা প্রবেশ করবে। দক্ষিণবঙ্গে বর্ষার প্রবেশ নিয়ে এদিনও কিছু বলা হয়নি। আবহাওয়া দপ্তরের দীর্ঘকালীন পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, আগামী ১৬ জুন নাগাদ উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হবে। এটির শক্তি বাড়ানোর বিশেষ কোনও সম্ভাবনা নেই। এরপর ২২ জুন নাগাদ উত্তর বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ তৈরি হবে। উত্তর বঙ্গোপসাগরের এই নিম্নচাপটি দক্ষিণবঙ্গে বর্ষাকে সক্রিয় করতে কতটা কার্যকরী হবে সেদিকেই এখন নজর রাখছেন আবহাওয়াবিদরা।
আজ শুক্রবার উত্তরবঙ্গের হিমালয় সংলগ্ন পাঁচ জেলা ছাড়াও উত্তর দিনাজপুরে ঝড়বৃষ্টি হতে পারে। ভারী বৃষ্টি হতে পারে জলপাইগুড়ি জেলার কোনও কোনও জায়গায়। শনিবার ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলায়। রবিবারও হিমালয় সংলগ্ন পাঁচ জেলায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। আগামী কয়েকদিনে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে হাল্কা থেকে মাঝারি বৃষ্টি এবং কিছু স্থানে ভারী বৃষ্টিও হতে পারে। সোম-মঙ্গলবার দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির মাত্রা বাড়তে পারে দুই মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলায়।



