Bartaman Logo
১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুরীর আদলে তিনটি রথ পরিক্রমা করে নিত্যানন্দ মহাপ্রভুর জন্মস্থান বীরচন্দ্রপুরে

নিত্যানন্দ মহাপ্রভুর জন্মস্থান মল্লারপুরের বীরচন্দ্রপুরেও জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উৎসব হয়। এখানে মায়াপুরের মতো সুন্দর ব্যবস্থাপনায় নিতাই গৌর মন্দির গড়ে তুলেছে ইসকন।

পুরীর আদলে তিনটি রথ পরিক্রমা করে নিত্যানন্দ মহাপ্রভুর জন্মস্থান বীরচন্দ্রপুরে
  • ২৭ জুন, ২০২৫ ০৪:০০

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: নিত্যানন্দ মহাপ্রভুর জন্মস্থান মল্লারপুরের বীরচন্দ্রপুরেও জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উৎসব হয়। এখানে মায়াপুরের মতো সুন্দর ব্যবস্থাপনায় নিতাই গৌর মন্দির গড়ে তুলেছে ইসকন। পুরীর আদলে জগন্নাথ মন্দিরও রয়েছে। ফি-বছর রথযাত্রার দিন হাজার হাজার মানুষ জগন্নাথ বাড়িতে আসেন।

Advertisement

ইতিহাস প্রসিদ্ধ চৈতন্য সহচর নিত্যানন্দ প্রভুর জন্মস্থান ঘিরে দেশ-বিদেশের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে বীরচন্দ্রপুর। যা বৈষ্ণব ধর্মের পীঠস্থান। সেখানে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী নিতাই বাড়ি, বাঁকারায় মন্দির, জগন্নাথ মন্দির, গৌরি মঠ, ইসকনের মন্দির, পঞ্চপাণ্ডব, মদনমোহন, শিব সহ বিভিন্ন মন্দির। নিত্যানন্দের বড় ভাই বাঁকা রায়ের সমাধির পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে সরু যমুনা নদী। অসংখ্য নিদর্শন ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এই গ্রামে। কথিত আছে, ছোটবেলায় নিত্যানন্দর নাম ছিল ‘কুবের’। তাঁর মা পদ্মাবতীদেবী ও বাবা মুকুন্দ বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে হারায় পণ্ডিত। একদিন কুবেরকে বলেন, আমাদের নীলাচল জগন্নাথের দর্শন করে নিয়ে এসো। কুবের বলে, নীলাচল অনেক দূর। এত বয়স হয়েছে। দীর্ঘপথ যেতে কষ্ট হবে, কীভাবে যাবে? আমি তোমাদের জগন্নাথ দেবের দর্শন করিয়ে দিচ্ছি। সেইসময় দৈবশক্তিতে স্বয়ং জগন্নাথ এখানে এসে দর্শন দেন। তখন ছোট একটি ঘরে ছিলেন জগন্নাথ। পরে সেই সূত্রেই এখানে জগন্নাথ মন্দিরের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। বছরের পর বছর ধরে এই মন্দিরে জগন্নাথদেবের নিত্যাসেবা হয়। তেমনই ধূমধাম করে এখানে রথযাত্রা উৎসব হয়ে আসছে। 
কিন্তু ক্রমশ মন্দিরটি ভগ্নপ্রায় অবস্থা হয়। ছাদ ভেদ করে জল পড়ত। তেমনই মন্দিরের পিছনে খাল ছিল। প্রায় ৩০ বছর আগে জগন্নাথবাড়ির স্থায়ী সেবক ও মাহান্ত হয়ে আছেন নিতাই বাড়ির সেবাইত অনন্তশরণ দাস। তিনি সেই স্থানেই পুরীর আদলে জগন্নাথ দেবের মন্দির গড়ার উদ্যোগ নেন। ভক্তদের কাছ থেকে ভিক্ষে করে তিনি জমি কেনেন। পরে ভক্তদের দানে প্রায় কুড়ি বছর আগে ভূবনেশ্বর থেকে ইঞ্জিনিয়ার এনে পুরীর মন্দিরের আদলে জগন্নাথদেবের প্রায় ৬০ফুট সুউচ্চ মন্দির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। প্রায় আট বছর ধরে চলে নির্মাণকাজ। ১২ বছর আগে সেই মন্দির ভক্তদের জন্য খুলে দেওয়া হয়। 
অনন্তশরণ দাস বলেন, পুরীর রথের আদলে এখানেও তিনটি রথ বের হয়। প্রথম রথে থাকেন বলরাম, দ্বিতীয়তে সুভদ্রা ও তৃতীয়তে জগন্নাথ, সুদর্শন ও গিরিধারীকে চাপিয়ে নাম সংকীর্তন সহযোগে রথ বের হয়। হাজার হাজার ভক্ত সেই রথযাত্রায় অংশ নেই। রথের দড়িতে টান দিতে মানুষের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ ও অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে প্রচুর পুলিস মোতায়েন করা হয়। 
প্রায় ছ’ঘণ্টা ধরে গোটা বীরচন্দ্রপুর প্রদক্ষিণের পর রথ ফের মন্দিরে ফিরিয়ে আনা হয়। তবে এখানে জগন্নাথের কোনও মাসির বাড়ি নেই। গতবছর মন্দির সংলগ্ন এলাকায় প্যান্ডেল খাটিয়ে মাসির বাড়ি করা হয়। কিন্তু প্রচণ্ড বৃষ্টির জন্য সেখানে জগন্নাথকে রাখা সম্ভব হয়নি। অনন্তশরণবাবু বলেন, মাসির বাড়ির জন্য জায়গা কেনা হয়েছে। কিন্তু টাকার অভাবে এখনও নির্মাণকাজ শুরু করা যায়নি। 
এখানে রথের সাতদিন বিশেষ পুজো, লীলাকীর্তনের আয়োজন করা হয়। প্রচুর ভক্ত সমাগম ঘটে। বিদেশ থেকেও বৈষ্ণব ধর্মের মানুষের আগমন ঘটে। সকলের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। রথযাত্রা উপলক্ষ্যে মন্দিরের বাইরে বসে মেলা। 
মায়াপুর ইসকন মন্দির এবং পুরীর জগন্নাথ মন্দির ও রথযাত্রা দর্শনে আজ শুক্রবার হাজার হাজার মানুষের ঠিকানা হয়ে উঠবে একচক্রাধাম বীরচন্দ্রপুর। গ্রামের যাঁরা কাজ বা বিবাহসূত্রে বাইরে থাকেন রথের সময় তাঁরা গ্রামে ফিরে এসেছেন। এক মিলন ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে গোটা গ্রাম।

সম্পর্কিত সংবাদ