নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রতারকরা হরিয়ানায় বসে চালাচ্ছিল সাইবার জালিয়াতি। জাল নথি তৈরি করে খোলা হয়েছিল একাধিক কোম্পানি। সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলির নামে খোলা হয় কারেন্ট অ্যাকাউন্ট। সেখানে জমা পড়ত প্রতারণার টাকা। অ্যাকাউন্টের সূত্র ধরে দু’টি মামলায় ফরিদাবাদ গ্যাংয়ের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে কলকাতায় নিয়ে এল সিআইডি। কত টাকার জালিয়াতি তারা করেছে, জিজ্ঞাসাবাদে তা জানার চেষ্টা চলছে।
সিআইডি সূত্রে খবর, তাদের কাছে অভিযোগ জমা পড়ে কলকাতার একটি নামী জুয়েলারি সংস্থার জাল ওয়েবসাইট তৈরি করে তাদের ফ্র্যানচাইজি দেবে বলে প্রতারণা করা হয়েছে। এক ব্যবসায়ীর অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, তিনি প্রতারকদের পাল্লায় পড়ে ২৯ লক্ষ টাকা খুইয়েছেন। তার ভিত্তিতে তদন্তে নেমে সিআইডি আধিকারিকরা দেখেন, টাকা জমা পড়েছে ফরিদাবাদের একটি ব্যাঙ্কে। সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক থেকে ওই অ্যাকাউন্টের তথ্য চাওয়া হয়। তা আসার পর তদন্তকারীরা জানতে পারেন জাল আধার, প্যান দিয়ে অ্যাকাউন্টটি খোলা হয়েছে। অ্যাকাউন্ট অপারেট হচ্ছে ফরিদাবাদে বসে। সেখানকার একজনের মোবাইল নম্বর রয়েছে। তার ভিত্তিতে সেখানে পৌঁছন সিআইডি আধিকারিকরা। মোবাইলের সূত্র ধরে গ্রেপ্তার করা হয় হরিওম সিং নামে এক জালিয়াতকে। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জেনেছেন ফরিদাবাদ গ্যাং এই কাজ করছে। তারা বিভিন্ন সংস্থার জাল ওয়েবসাইট তৈরি করে প্রতারণা করে বেড়াচ্ছে। চক্রের বাকিদের খোঁজা হচ্ছে।
অন্যদিকে, চন্দননগর কমিশনারেটে সাইবার জালিয়াতির অভিযোগ হয়। তার তদন্তভার নেয় সিআইডি। প্রতারিতদের টাকা যে সমস্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছিল, তার সূত্র ধরে জানা যায়, এগুলি কোম্পানির অ্যাকাউন্ট। ভুয়ো আধার বা প্যান সহ বিভিন্ন নথি দিয়ে এগুলি খোলা হয়েছে। এগুলিও অপারেট করা হচ্ছে ফরিদাবাদে বসে। তার ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিস ফরিদাবাদ থেকে হিমাংশু সোলাঙ্কি ও প্রবীণ কুমার নামে দু’জনকে গ্রেপ্তার করে।
জানা যাচ্ছে, তারা এই কোম্পানিগুলি খুলত। এরপর সেখানে সাইবার জালিয়াতির টাকা জমা করত। পরে এই টাকা আবার ক্রিপ্টো কারেন্সিতে পরিবর্তন করত। কত টাকা তারা এভাবে ক্রিপ্টোতে বদলেছে, সেটা জানার চেষ্টা চলছে।