Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পর্যটকদের মনকে ‘ছায়া’ দিচ্ছে তিন বিঘার বটগাছ

গাছটা একাই একটা জায়গাকে যেন জঙ্গল বানিয়ে তুলেছে। প্রায় তিন বিঘা জমিজুড়ে তার বিন্যাস। শ’খানেক শ্রান্ত মানুষ হেসেখেলে শুয়েবসে গাছের তলায় বিশ্রাম নিতে পারেন এমন তার পরিধি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে আছে গাছটি।

পর্যটকদের মনকে ‘ছায়া’ দিচ্ছে তিন বিঘার বটগাছ
  • ২৯ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: গাছটা একাই একটা জায়গাকে যেন জঙ্গল বানিয়ে তুলেছে। প্রায় তিন বিঘা জমিজুড়ে তার বিন্যাস। শ’খানেক শ্রান্ত মানুষ হেসেখেলে শুয়েবসে গাছের তলায় বিশ্রাম নিতে পারেন এমন তার পরিধি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে আছে গাছটি। সেটি ঘিরে ক্রমে আগ্রহ তৈরি হচ্ছে মানুষের। শুধুমাত্র বটবৃক্ষটি দেখতে ভাঙড়ে ছুটে আসছেন অনেকে।

Advertisement

হাওড়ার বটানিক্যাল গার্ডেনের ‘দ্য গ্রেট ব্যানিয়ান ট্রি’ একসময় বিশ্বের বৃহত্তম বৃক্ষের মর্যাদা পেত। ভাঙড়ের গাছটি দেখে অনেকের ব্যানিয়ানের কথা মনে পড়ে। দু’টির মধ্যে নাকি অদ্ভুত সাদৃশ্য। তিন বিঘাজুড়ে বিস্তৃত ভাঙড়ের বটবৃক্ষটির শাখা-প্রশাখা। এই গরমে পথচারীদের আশ্রয় দেয় সে। স্থানীয়রা বিশ্রাম নিতে আসেন। প্রকৃতির এই বিস্ময় গাছটি কোল পেতে জিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেয় প্রাণীজগতকে। এখন এই বটগাছটিকে কেন্দ্র করে একটি নতুন পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে এই এলাকা। অনেকে এসে ছবি তোলেন। ভিডিও বানান। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেন। সেই পোস্ট দেখে আবার অনেকে ছুটে আসেন। 
বহু ঝড়-ঝঞ্ঝা বয়ে গিয়েছে গাছটির উপর দিয়ে। কিছু ডালপালার ক্ষতি হয়েছে। তবুও সব সয়ে নিজের মতো করে বেড়ে উঠেছে সেটি। সঠিক বয়স কেউ নিশ্চিতভাবে বলতে পারে না। কেউ বলে ১০০ বছর পুরনো। কারও দাবি, ১৫০ বছর কম করে। এখন স্থানীয় বাসিন্দারা গাছটির সঠিক পরিচর্যার দাবি তুলেছেন। পাশাপাশি গ্রেট ব্যানিয়ানের মতো সংরক্ষণের দাবিও তুলেছেন। 
ভোজেরহাট থেকে হাতিশালা যেতে পড়ে ক্রোলবেড়িয়া কালীতলা। পাকা সড়ক থেকে ডানদিকে নেমে গিয়েছে একটি মাটির রাস্তা। সেই রাস্তায় ঢুকলেই ছায়া। রোদের লেশমাত্র নেই। কারণ ওই বিশাল বটবৃক্ষ। সেটির ছড়ানো ডালপালা ছাতার মতো সূর্য কিরণ আটকে রেখেছে কয়েক যুগ ধরে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এখানে কালীমন্দির আছে। আশপাশের গ্রামের মানুষ পুজো দিতে আসেন। বটবৃক্ষের শাখা-প্রশাখা সেই মন্দিরটিকেই আগলে রেখেছে। জায়গাটি ক্রমে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কয়েকটি বাংলা সিরিয়াল এবং একটি হিন্দি সিনেমারও শুটিং হয়েছে। এখানে দুপুরে কেউ মাদুর পেতে বসে সেলাই করেন। কেউ দিবানিদ্রা যান। বর্তমানে প্রাচীন কালী মন্দিরটির সংস্কার হয়েছে। টেরাকোটা শৈলী ব্যবহার করে নতুন রূপ পেয়েছে মন্দির। ভিতর অংশ আলো ঝলমলে। সন্ধ্যায় মন্দিরটি অনন্য রূপে উদ্ভাসিত হয়। ভক্তদের বিশ্বাস, এই কালী মন্দিরটিকেই বুক পেতে আগলে রেখেছে বিশাল বটবৃক্ষটি। ঝড়-ঝঞ্ঝা নিজের শরীরে বহন করে রক্ষা করে চলেছে কালীকে।
 ভাঙড়ের সেই বটগাছ। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ