


তেহরান: ইরানের সঙ্গে ইজরায়েল-আমেরিকার সংঘাত কমার কোনো লক্ষণ নেই। এই যুদ্ধের কারণে পশ্চিম এশিয়া থেকে বহু ব্রিটিশ নাগরিক দুবাই ছাড়ছেন। প্রাণ বাঁচাতে নিজেরা পালালেও তাঁদের হাজার হাজার পোষ্যকে নিয়ে যাচ্ছেন না তাঁরা। ফলে এই যুদ্ধের আবহে এখন পোষ্য প্রাণীদের প্রাণ সংশয় বলে জানিয়েছে একাধিক প্রাণী দাতব্য সংস্থা।
আরএসপিসিএ-র তথ্য অনুযায়ী, গত ১ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৪৫ হাজার ব্রিটিশ নাগরিক পশ্চিম এশিয়া ছেড়েছেন। জরুরি ফ্লাইটে দেশ ছাড়ার সময় অনেকেই তাঁদের পোষা প্রাণীদের সঙ্গে নিয়ে যেতে পারছেন না। আরএসপিসিএ উত্তর ল্যাঙ্কাশায়ার শাখার প্রধান হান্না মেইন্ডস জানান, পরিত্যক্ত অনেক প্রাণীর শরীরে মাইক্রোচিপ পাওয়া গিয়েছে। অর্থাৎ এক সময় মালিক পরিবার তাদের খুব ভালোবাসত। কিন্তু যুদ্ধের আবহে প্রাণ বাঁচাতে মালিকরা দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ায় এখন একা ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে পোষ্যগুলি।
কে-নাইন ফ্রেন্ডস নামে একটি দাতব্য সংস্থা জানিয়েছে, যুদ্ধের কারণে মানুষকে হঠাৎ করে দেশ ছাড়তে হচ্ছে, যার ফলে অনেক পোষা প্রাণী একা হয়ে পড়ছে। এই পোষ্যদের উদ্ধারের জন্য সবরকম চেষ্টা করা হচ্ছে। দুবাইয়ের অন্যান্য আশ্রয়কেন্দ্রেও এখন অতিরিক্ত চাপ রয়েছে। দুবাই স্ট্রিট কিটিস তাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছে, সংস্থার প্রতিটি ঘর এখন বিড়ালে ভরতি। প্রতিদিন অসংখ্য আহত ও পরিত্যক্ত বিড়াল উদ্ধারের অনুরোধ আসছে। কিন্তু জায়গা না থাকায় তারা হিমশিম খাচ্ছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুবাই পুরসভা শহরজুড়ে ১২টি এআই ফিডিং স্টেশন চালু করেছে। যেখান থেকে রাস্তার কুকুর-বিড়ালরা খাবার খেতে পারবে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির আইন অনুযায়ী, কোনো পোষা প্রাণীকে রাস্তায় বা অনিরাপদ অবস্থায় ফেলে যাওয়া একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। যদি কোনো মালিক তাঁর প্রাণীর দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করেন বা পরিত্যক্ত অবস্থায় রেখে যান, তাহলে তাঁকে ১০ হাজার পাউন্ড বা সমপরিমাণ দিরহাম পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। তবে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এক নতুন সংকট দেখা দিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির অনেক শেখ শখের বশে বাড়িতে ব্যক্তিগত চিড়িয়াখানা তৈরি করেছিলেন। সেখানে বাঘ, সিংহ ও চিতার মতো বিভিন্ন বন্যপ্রাণী ছিল। যুদ্ধের কারণে মালিকরা দ্রুত দেশ ত্যাগ করায় বন্যপ্রাণীগুলো এখন চরম বিপদে পড়েছে। বিশাল খাঁচায় বন্দি প্রাণীগুলোর নিয়মিত খাবার ও সঠিক যত্নের অভাব দেখা দিয়েছে। গৃহপালিত প্রাণীদের জন্য কিছু আশ্রয়কেন্দ্র থাকলেও, এই বন্য প্রাণীগুলোর দায়িত্ব নেওয়ার মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার অভাব দেখা দিয়েছে।