


কিয়েভ: যুদ্ধে রাশিয়ার হয়ে লড়াই করছেন কমপক্ষে ১৫৫ চীনা নাগরিক। ইতিমধ্যে পূর্ব দোনেৎস্ক অঞ্চলে দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। গত সপ্তাহে থেকে এমনই দাবি করছিল ইউক্রেন। এবার চীনা যুদ্ধবন্দিদের প্রকাশ্যে নিয়ে এল কিয়েভ। পরিচয় জানানোর পাশাপাশি তাদের সংবাদমাধ্যমের সামনে হাজির করা হয়। অথচ আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের নিয়ম অনুযায়ী, যুদ্ধ বন্দিদের এভাবে সংবাদমাধ্যমের সামনে পেশ করা যায় না। অর্থাৎ, ইউক্রেনের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের পরিপন্থী। তাহলে কেন এই পদক্ষেপ নিল তারা? ওয়াকিবহাল মহলের মতে, চীন বারেবারেই ইউক্রেনের দাবি খারিজ করেছে। তাদের ওই বক্তব্যের ধার ভোঁতা করতেই চীনা যুদ্ধবন্দিদের সামনে আনা হল। যদিও ভোলোদামির জেলেনস্কির দেশের এই কাজে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছে জি জিনপিংয়ের দেশ। চীনের বিদেশ মন্ত্রকের তোপ, ‘ইউক্রেনের এই সঙ্কটের জন্য বেজিং দায়ী নয়। এই যুদ্ধে আমরা অংশগ্রহণ করছি না। তাই সব পক্ষকে এবিষয়ে যাবতীয় তথ্য যাচাই করে বক্তব্য রাখার আর্জি জানাচ্ছি।’
গত তিন বছর ধরে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ চলছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর ইউক্রেনকে সাহায্যের পরিমাণ অনেকটাই কমিয়েছে আমেরিকা। এদিকে শুরু থেকেই মস্কোর পাশে দাঁড়িয়েছে চীন। পুতিন বাহিনীকে আর্থিক ও কূটনৈতিক স্তরে সাহায্য করেছে ড্রাগনের দেশ। এই অভিযোগ নতুন নয়। এবার রুশ সেনার হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে ধরা পড়া দুই চীনা নাগরিকদের পরিচয় প্রকাশ করল ইউক্রেন। জানা গিয়েছে, চীনা যুদ্ধ বন্দিদের একটি বিশেষ ঘরে আনা হয়। পরনে ছিল সেনা পোশাক। ওই ঘরে বসেই ম্যান্ডারিন ভাষায় সাংবাদিকদের যাবতীয় প্রশ্নের উত্তর দেয় তারা। এক যুদ্ধবন্দি জানান, কোভিড পর্বে চাকরি হারানোর পর তিনি কাজ খুঁজছিলেন। তখনই তাঁকে বেশি টাকার টোপ দিয়ে রুশ বাহিনীর সদস্য করা হয়। প্রথমে চিকিৎসা নিয়ে প্রশিক্ষণ। তারপর যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে সোজা রণক্ষেত্রে। ওই ব্যক্তির কথায়, ‘রাশিয়ায় প্রতি মাসে আড়াই লক্ষ রুবল উপার্জন করার সুযোগ পেয়েছিলাম। চীনে থাকলে এটা সম্ভব হতো না।’
বর্তমানে চীনের সঙ্গে শুল্কযুদ্ধে জড়িয়েছে আমেরিকা। আন্তর্জাতিক মহলের মতে, এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর মাধ্যমে যুদ্ধ নিয়ে ফের ওয়াশিংটনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হবে কিয়েভ।