


নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ঊর্ধ্বমুখী। পেট্রপণ্যও অগ্নিমূল্য। তার উপর জাতীয় সড়কে টোলট্যাক্সও বাড়িয়ে দিল কেন্দ্রীয় পরিবহণ মন্ত্রক। পয়লা এপ্রিল থেকে ছোট গাড়ির মালিকদেরও বাড়তি টাকা গুণতে হবে। এতদিন ছোট গাড়ির চালকরা ফাস্টট্যাগে তিন হাজার টাকা রিচার্জ করলেই টোলপ্লাজা পেরতে পারতেন। এক বছর অথবা ২০০ বার ওই প্লাজা দিয়ে যাতায়াত করা যেত। এখন থেকে ‘অ্যানুয়াল পাশের’ জন্য তিন হাজার ৭৫ টাকা রিচার্জ করতে হবে। ন্যাশানাল হাইওয়ে দপ্তরের দুর্গাপুর ডিভিশনের পিডি মণীশ কুমার যাদব বলেন, ‘রবিবার সকালেই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।’
কেন্দ্রের এমন সিদ্ধান্তে বেজায় ক্ষুব্ধ পরিবহণ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ী ও প্রাইভেট গাড়ির মালিকরা। তাঁদের বক্তব্য, ক’দিন আগে জাতীয় সড়কের উপর নবনির্মিত একটি ওভার ব্রিজে ধস নামে। ঘটনাস্থল মেমারির সরডাঙা। বরাত জোরে অনেকে রক্ষা পান। নিরাপত্তার উপর জোর না দিয়ে টোলের ভাড়া বাড়িয়ে চলেছে কেন্দ্রের পরিবহণ মন্ত্রক। গাংপুরের বাসিন্দা শুভজিৎ চক্রবর্তী বলেন, ‘অনেকের বাড়িতেই এখন ছোট চারচাকা গাড়ি রয়েছে। পরিশ্রমের টাকা জমিয়ে তাঁরা গাড়ি কেনেন। এখন তা চালানোটাই দায় হয়ে উঠেছে। পেট্রল, ডিজেলের দাম ক্রমেই আকাশছোঁয়া হচ্ছে। তারপর টোলের ভাড়াও লাফিয়ে বাড়ছে। ইচ্ছে থাকলেও অনেকেই গাড়ি চড়তে পারবেন না।’ চালক মুন্না শেখ বলেন, ‘গাড়ি ভাড়া খাটিয়ে কোনওরকমে সংসার চলে। জাতীয় সড়কের উপর একাধিক জায়গায় টোল আদায় করা হয়। সেই ভাড়াও বেড়ে চলছে। আশা করেছিলাম সরকার ভাড়া কমিয়ে স্বস্তি দেবে। কিন্তু উল্টোটাই ঘটছে। ফাস্টট্যাগ রিচার্জ বাড়িয়ে দিয়ে আমাদের মতো গাড়ির মালিকদের সমস্যায় ফেলে দিয়েছে। এবার গাড়ির ভাড়াও বাড়াতে হবে।’ চালকদের দাবি, ফাস্টট্যাগ রিচার্জ বাড়ানোর আগে জাতীয় সড়কের পরিকাঠামো আরও উন্নত করা দরকার। সড়কজুড়ে ওভারব্রিজ তৈরি হয়েছে। সেগুলি নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে করা হয়েছে। শুধু সরডাঙা নয়, অন্যান্য ওভারব্রিজগুলিও ভেঙে পড়বে না, এমন কোনও গ্যারান্টি নেই। তাছাড়া জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের কাজ আড়াই বছরের বেশি সময় ধরে চলায় চালকদের দুর্ভোগ চরমে ওঠছে। এখনও সম্প্রসারণের কাজ সব জায়গায় শেষ হয়নি। তারমধ্যেই ফাস্টট্যাগ রিচার্জ বৃদ্ধির বোঝা! জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের এক আধিকারিক বলেন, সড়ক সম্প্রসারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হয়েছে। বর্ধমান থেকে কলকাতা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এখন পৌঁছনো যাচ্ছে। সড়ক রক্ষণাবেক্ষণে টোল না বাড়ানো ছাড়া কোনও উপায় ছিল না।’