Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

এবার ভোট প্রতিরোধের, প্রতিশোধেরও: অভিষেক

এসআইআরের মাধ্যমে ভোটাধিকার হারিয়েছেন সীমান্তবর্তী জেলা নদীয়া ও উত্তর ২৪ পরগনার লক্ষাধিক মানুষ। মতুয়া, নমঃশূদ্র উদ্বাস্তু থেকে সংখ্যালঘু—তালিকাটা দীর্ঘ।

এবার ভোট প্রতিরোধের, প্রতিশোধেরও: অভিষেক
  • ১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অগ্নিভ ভৌমিক, শ্যামলেন্দু গোস্বামী, রানাঘাট ও বাদুড়িয়া: এসআইআরের মাধ্যমে ভোটাধিকার হারিয়েছেন সীমান্তবর্তী জেলা নদীয়া ও উত্তর ২৪ পরগনার লক্ষাধিক মানুষ। মতুয়া, নমঃশূদ্র উদ্বাস্তু থেকে সংখ্যালঘু—তালিকাটা দীর্ঘ। তাই অধিকার রক্ষার ভোট এবার, প্রত্যাঘাতের লড়াইও। সোমবার করিমপুর, রানাঘাট এবং বাদুড়িয়ার জনসভা থেকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সেটাই বুঝিয়ে দিলেন। বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি বলেন, ‘বাংলাকে যারা নিপীড়িত, অত্যাচারিত, অবহেলিত শোষিত, বঞ্চিত করে রেখেছে, তাদের জবাব এমনভাবে দিতে হবে, যেন বাংলার সঙ্গে বেইমানি করার আগে বিজেপির বহিরাগত নেতারা একশোবার ভাবে।’ বক্তব্যের ছত্রে ছত্রে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, এবারের নির্বাচন কোনো সাধারণ নির্বাচন নয়, এবারের ভোট প্রতিরোধের, বিজেপির বিরুদ্ধে প্রতিশোধের ভোটও। তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ডের হুংকার, ‘বাংলার মানুষের জেদ কী, এটা বিজেপিকে বোঝানোর সময় এসে গিয়েছে। যত বহিরাগতরা বাংলায় আসবে, ততই দু’লক্ষ করে ভোট বাড়বে তৃণমূলের।’

Advertisement

বাদুড়িয়ার জনসভা থেকে এসআইআরের সুপ্রিম মামলা নিয়ে তৃণমূলের সেনাপতি বলেন, বিচারপতিরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যে যাঁদের নাম এখনো ক্লিয়ার হয়নি, তাঁরা কী করে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন? আমরা সুপ্রিম কোর্টকে সম্মান করি। এই ভোট শুধু তৃণমূলকে জেতানোর ভোট নয়, বিজেপিকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার ভোট। এবারের ভোট অধিকার রক্ষার, প্রতিশোধ-প্রতিরোধের ভোট।! ভারত স্বাধীন হওয়ার ৭৯ বছর পরেও লাইনে দাঁড় করিয়ে নাগরিকত্বের প্রমাণ চাইছে, তাদের ল্যাজেগোবরে করার ভোট।’ 
অধিকারহরণ এবং সাম্প্রদায়িক বিভাজনের লড়াইয়ের পাল্টা উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে মঞ্চ থেকেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বিজেপিকে ল্যাজেগোবরে করে মাঠের বাইরে পাঠানোর হুংকার দেন তৃণমূলের সেনাপতি। তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালে বাংলা বিজেপিকে জবাব দিয়েছে। তাই প্রতিশোধ নিতে এসআইআরের মাধ্যমে বাংলার মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়ে ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে।’ ছাব্বিশেও সেই জবাবটা ভোটের লাইনে দাঁড়িয়েই দেওয়ার বার্তা দেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড। তারপরই আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘আমাদের সরকার গঠন হওয়ার পর, এক মাসের মধ্যে আপনাদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেবে। এটা আমাদের শপথ। কেউ ভয় পাবেন না।’
মতুয়া অধ্যুষিত রানাঘাটের সভা থেকে তৃণমূলের সেনাপতি বলেন, ‘যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, কেউ সিএএ ফর্ম ফিলআপ করে নিজেদের বাংলাদেশি ঘোষণা করবেন না। ৪ মে তৃণমূলের সরকার তৈরি হবে।‌ রানাঘাট, বনগাঁয় তৃণমূল জিতবে।‌ আপনাদের নাগরিকত্বের আইনি কার্ড রাজ্য সরকার তৈরি করে আপনাদের হাতে দেবে।’
বাদুড়িয়ার জনসভায় বিজেপির বি-টিম হিসাবে মিম, আইএসএফকে কাঠগড়ায় তুলে অভিষেকের কটাক্ষ, ‘এরা যে বিজেপির হয়ে কাজ করে, তা জনসমক্ষে চলে এসেছে। একমাত্র তৃণমূল কংগ্রেস মানুষের ভোটে জিতে মানুষের আবেগ ও ভরসা নিয়ে কখনই গদ্দারি বা বেইমানি করে না।’ মঞ্চে অভিষেকের সদর্পে ঘোষণা, ‘প্রথম দফায় মানুষ গণতান্ত্রিকভাবে বিজেপির কান, মাথা, মুখ ভাঙবে। আর দ্বিতীয় দফায় গণতান্ত্রিকভাবেই কোমর, পা, হাঁটু, কনুই ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ করবে। বিজেপির কোমায় যাওয়া কেবল সময়ের অপেক্ষা।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ