


জেরুজালেম: বছরের পর বছর ইরানের পরমাণু কেন্দ্রকে টার্গেট করেছে ইজরায়েল। ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’-এর শুরুতেই ইরানের বেশ কয়েকটি পরমাণু কেন্দ্রে আছড়ে পড়ে ইজরায়েল সেনার ক্ষেপণাস্ত্র। পাল্টা জবাব দেয় ইরানও। নিশানায় ইজরায়েলের গবেষণা প্রতিষ্ঠান। দু’দেশের সংঘাতের মাঝে পড়ে উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইজরায়েলের বিখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়েজম্যান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্সে। যা বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাকেন্দ্র। এই হামলায় হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও ভেঙে চুরমার হয়েছে বহু ল্যাব। ধ্বংস হয়েছে বহু বছর ধরে চলা গবেষণার ফসলও।
জীববিজ্ঞান, পদার্থ বিজ্ঞান সহ নানা বিষয়ে গবেষণার জন্য বিশ্বখ্যাত এই কেন্দ্র। হামলার পর প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে ইজরায়েল। দুর্ঘটনার একাধিক ছবি ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেখানে দেখা গিয়েছে, গবেষণাগারের জানলা ভাঙা। ধসে পড়েছে ছাদ। চারিদিক পুড়ে গিয়েছে। নিউরো সায়েন্স ও কোষবিজ্ঞানী ওরেন শুলডিনার বলছিলেন, ‘এই গবেষণাকেন্দ্রে হামলা চালানো ইরানের নৈতিক জয়। আমাদের সমস্ত গবেষণা থমকে গিয়েছে। আবার নতুন করে সবটা শুরু করতে হবে।’
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি পিছিয়ে দেওয়ার জন্য গত কয়েক বছর ধরে নানা চেষ্টা চালাচ্ছে ইজরায়েল। সম্প্রতি ইরানের ন’জন পরমাণু বিজ্ঞানী নিহত হয়েছেন ইজরায়েলি হামলায়। গত বছর ইজরায়েল দাবি করেছিল, ওয়েজম্যান ইনস্টিটিউটের এক পারমাণবিক বিজ্ঞানীকে হত্যা করতে চেয়েছিল ইরানি গুপ্তচরচক্র। যদিও সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি। এবার সংঘর্ষে জড়াতেই সেই প্রতিষ্ঠানেই সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাল ইরান। অনেকেই মনে করছেন, ইরান ইচ্ছাকৃতভাবেই এই গবেষণাকেন্দ্রকে নিশানা করেছে। কারণ এটি কেবল গবেষণা কেন্দ্রই নয়, ইজরায়েলের সামরিক ব্যবস্থার সঙ্গেও যুক্ত। এই হামলা বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও প্রযুক্তির উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।