


নয়াদিল্লি: পাকিস্তানকে শায়েস্তা করতে ভারতের পথেই আফগানিস্তান। পহেলগাঁও হামলার পর সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি বাতিল করে ভারত। এবার তালিবানও কুনার নদীতে নতুন বাঁধ গড়ে বিপাকে ফেলতে চাইছে ইসলামাবাদকে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই বাঁধের কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন আফগানিস্তানের তালিবান সরকারের সর্বোচ্চ নেতা মৌলবি হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা। পাকিস্তানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর আফগানিস্তানের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি বাতিল নিয়ে ভারতের সাফ যুক্তি ছিল, রক্ত আর জল একসঙ্গে বইতে পারে না। বিষয়টা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সরব হয় ইসলামাবাদ। দেশের করুণ পরিস্থিতিতে প্রবল চাপের মুখে পড়েন পাকিস্তানের শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব। ভারতের বিরুদ্ধে পরমাণু হামলার হুমকি পর্যন্ত দিয়েছিলেন পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির। তাতে চিঁড়ে ভেজেনি। এরইমধ্যে আফগানিস্তানে কুনার নদী বাঁধ প্রকল্পে পাকিস্তানের রাতের ঘুম কেড়ে নিতে পারে।
তেহরিক-ই তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) কে শায়েস্তা করতে কিছুদিন আগেই আফগানিস্তানে হামলা চালায় পাকিস্তান। এর জবাব দেয় আফগানিস্তানও। দুই দেশ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। হামলা-পালটা হামলায় প্রাণ হারিয়েছে দুই দেশেরই বহু সাধারণ মানুষ ও সেনা। এরইমধ্যে দু’দেশের যুদ্ধবিরতিও হয়েছে। কিন্তু উত্তেজনার পারদ বিন্দুমাত্র নামেনি। এই আবহেই এবার ভারতের মতোই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জলযুদ্ধে নামল কাবুলও। সেদেশের জলমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘আফগানদের নিজেদের জলের উপর অধিকার আছে।’ তিনি আরও জানান, এই প্রকল্প সম্পূর্ণভাবে দেশীয় সংস্থা দ্বারা পরিচালিত হবে। কুনার নদীতে বাঁধ তৈরি হলে পাক-আফগান সম্পর্ক যে আরও তলানিতে ঠেকবে তা বলাই বাহুল্য। কারণটা নদীর গতিপথ। পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনওয়ার হিন্দুকুশ পর্বত থেকে বেরিয়ে দক্ষিণমুখী এই নদী আফগানিস্তান প্রবেশ করে। সেখানে কুনার ও নাঙ্গারহার প্রদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কাবুল নদীতে মেশে। কাবুল নদীটি আবার পূর্বমুখী হয়ে পাকিস্তানে প্রবেশ করে এবং পেশোয়ারের কাছে পেচ নদীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে শেষে সিন্ধু নদীতে মিলিত হয়। কাবুল নদী পাকিস্তানের জল সরবরাহের অন্যতম উৎস। কৃষিকাজ, পানীয় জল এবং জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আফগানিস্তান এই নদীতে বাঁধ তৈরি করলে পাকিস্তানে তীব্র জলসঙ্কট দেখা দেবে।