


নয়াদিল্লি: লাদাখের জন্য নতুন সংরক্ষণ ও ‘ডমিসাইল’ নীতি ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় সরকার। মঙ্গলবার থেকেই তা চালু হয়েছে। এব্যাপারে সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এখন থেকে ৮৫ শতাংশ সরকারি চাকরি স্থানীয়দের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। একইসঙ্গে লাদাখ অটোনমাস হিল ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলের এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে মহিলাদের জন্য। ইংরেজি, হিন্দি, উর্দু, ভোটি ও পুরগিকে সরকারি ভাষার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয়দের ভাষা, সংস্কৃতি, জমির অধিকার সুরক্ষিত রাখার ব্যাপারে সওয়াল করে আসছেন লাদাখের জলবায়ু কর্মী সোনম ওয়াংচুক। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ১৫ বছর ধরে লাদাখে বসবাস করলে নিয়োগের ক্ষেত্রে সংরক্ষণের সুযোগ পাবেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। সাত বছর লাদাখে পড়াশোনা করে সেখানকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা দিলেও এই সুযোগ মিলবে। এখানেই শেষ নয়। লাদাখে ১০ বছর ধরে কর্মরত কেন্দ্রীয় সরকারি আধিকারিক, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক, কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আধিকারিক, কেন্দ্র স্বীকৃত গবেষণাগারের কর্মীদের সন্তানরাও স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবেই গণ্য হবে।
লাদাখে মোট দু’টি স্বায়ত্তশাসিত পাহাড়ি উন্নয়ন পর্ষদ রয়েছে। প্রথমটি লেতে। অন্যটি কারগিলে। ১৯৯৭ সালের আইনের কথা মাথায় রেখে দুই ক্ষেত্রেই মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে কেন্দ্র। রোটেশনের মাধ্যমে বিভিন্ন আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলিকে এই সুযোগ দেওয়া হবে। একইসঙ্গে জানানো হয়েছে, এই ‘ডমিসাইল’ সংশাপত্রের বৈধতা শুধুমাত্র কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের অধীনে থাকা পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সীমিত থাকবে। ২০২৫ সালের লাদাখ সিভিল সার্ভিসেস ডিসেন্ট্রালাইজেশন অ্যান্ড রিক্রুটমেন্ট (সংশোধিত) রেগুলেশনের শর্ত মেনেই তা করা হবে। তবে আর্থিকভাবে দুর্বল শ্রেণির মানুষদের জন্য সংরক্ষণ ১০ শতাংশই থাকছে। সংরক্ষণের পাশাপাশি লাদাখের অন্যান্য স্থানীয় ভাষার প্রচারেও বিশেষ ব্যবস্থা নিতে চলেছে প্রশাসন।