


নিজস্ব প্রতিনিধি, আমেদাবাদ: সারি সারি কবর। আকার যদিও আলাদা আলাদা। প্রতিটার উপরেই সবুজ রংয়ের কংক্রিট। তার উপর রাখা ফুল। চারপাশে ছোট্ট রেলিং। রীতিমতো ভাবগম্ভীর পরিবেশ। আর সেখানেই কিনা রেস্তরাঁ! নাম লাকি।
আজ্ঞে হ্যাঁ, কবর এবং রেস্তরাঁ একই জায়গায়। কবরগুলোর পাশেই রাখা চেয়ার-টেবিল। সেখানে বসে নানা বয়সি দিব্যি খাওয়াদাওয়া সারছেন। কেউ অর্ডার দিচ্ছেন স্যান্ডউইচ, তো কেউ বান মাসকা। ধোসা, ইডলি, সম্বর তো রয়েইছে। আবার ব্রেড-বাটার-ওমলেট খেতে চাইলেও অসুবিধা নেই। এগুলো অবশ্য ব্রেকফাস্টের আইটেম। হাঁসফাঁস করা গরমে কোল্ড ড্রিংকস চাই? খান দুয়েক বড়সড় ফ্রিজ রয়েছে কবরের পাশেই। ফুলকোর্স লাঞ্চের জন্য ছুঁচোয় ডন দিচ্ছে পেটে? অসুবিধা নেই। ভাত, রুটি যা ইচ্ছা খান। নিরামিষ পছন্দ নয়? চিকেন নিন। কিন্তু খেতে হবে ওই কবরগুলোর মাঝখানে বসেই। ওয়েটাররা অর্ডার নিচ্ছেন। কিচেনে যাচ্ছেন। খাবার সার্ভ করছেন। কম্পিউটারে হিসাব রাখাও চলছে। খাওয়ার পর হাত ধোবেন নিশ্চয়। ওই তো কবরগুলোর পাশ দিয়েই বেসিনের পথ। তার সামনে আবার পেল্লাই গাছ। ছাঁদ ফুঁড়ে যা মাথা তুলেছে আকাশে। গাছের ঠোক্কর থেকে মাথা বাঁচাতে তাকাতে গিয়ে কবরের গায়েও ঠেকবে পা। অতএব দেখকে চলিয়ে বাবু!
সবরমতী রিভারফ্রন্টের কাছাকাছি ভদ্রকালী মাতা মন্দিরের লাগোয়া লাল দরওয়াজা। এই রেস্তরাঁ এরই পাশে। ১৯৫০ সালে পথ চলা শুরু। প্রথমে পাওয়া যেত স্রেফ চা। ক্রমশ আয়তন বাড়ে দোকানের। বাড়ে মেনুও। এখন তো কিচেনই বিশাল। কেউ চা বানাচ্ছেন, কেউ সবজি কাটছেন, কেউ বা প্লেট ধুতে ব্যস্ত। স্টাফের সংখ্যাও নেহাত কম নয়, খান ত্রিশেক! সকাল দশটা নাগাদ পৌঁছে দেখা গেল সন্তান সহ বেশভূষায় অত্যাধুনিক এক দম্পতি বসে রয়েছেন একপাশে। পরিবারের অন্য সদস্যাও। চায়ের কাপ হাতে আড্ডায় মাতলেন সকলে।
গুনে দেখা গেল, মোট ২৬টি কবর আশপাশে ছড়ানো। প্রত্যেকটির ভিতর শায়িত সুফি সাধক। ম্যানেজার মহম্মদ আলি শোনালেন, এখানে এক সময় নিয়মিত আসতেন মকবুল ফিদা হুসেন। কবরের পাশে বসে নাকি এঁকেওছেন ছবি। তা আবার দিয়েও গিয়েছেন উপহার হিসেবে। সেই ছবি এখন অবশ্য টাঙানো নেই। তা খোলা হয়েছে পরিষ্কার করার জন্য। তাই একপাশে রাখা। তবে সংস্কারের পর তা দ্রুত ফিরবে দেওয়ালে। সেলিব্রেটি গেস্টের তালিকায় আরও একজনের নাম পাওয়া গেল। তিনি রাহুল গান্ধী। ২০২২ সালে এসেছিলেন তিনি।