রাহুল চক্রবর্তী, কলকাতা: ভোট ঘোষণার আগে থেকেই তৃণমূল প্রত্যয়ী সুরে বলে আসছে, ‘ফের ক্ষমতায় আসছি আমরাই।’ আর ভোটের প্রচার যখন পুরোদমে শুরু হয়ে গিয়েছে, তখন তৃণমূলের আরও সুস্পষ্ট বক্তব্য, ‘৩৬৫ দিন মানুষের পাশে থাকি শুধু আমরাই।’ সময়ের তারতম্যে দু’টি বক্তব্যের মধ্যে জোড়াফুল শিবিরের মোদ্দা বক্তব্য, তৃণমূলকে মানুষ ভোট দেবেন, কারণ বাংলায় আছে ‘স্থায়ী সরকার।’
ভোটমুখী বাংলায় প্রতিদিন চড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। শাসক ও বিরোধী, প্রত্যেকের দাবি, তারই ক্ষমতায় আসছে। তৃণমূলের দাবি, প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত। প্রধান বিরোধী দল বিজেপির বক্তব্য, ‘পরিবর্তন আসন্ন’। এক সময় রাজ্যের শাসন ক্ষমতায় থাকা সিপিএম আওয়াজ তুলেছে, ‘বাংলা বাঁচাও’। ত্রিপাক্ষিক এই ভোট যুদ্ধে বিরোধীদের থেকে এক কদম এগিয়ে গিয়েছে তৃণমূল। ইতিমধ্যে তারা ইস্তাহার প্রকাশ করে ফেলেছে। উন্নয়নের নিরিখেই মানুষের কাছে ভোট চেয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইস্তাহারে লিখেছেন, ‘গত ১৫ বছরে উন্নয়নকে আমরা মানুষের নাগালে এনেছি। আগামী পাঁচ বছরের লক্ষ্য, বাংলাকে স্বনির্ভর করে তোলা, যাতে দিল্লির কোনো জমিদার আর কোনোদিন আমাদের পাওনা টাকা আটকে রাখার সাহস না পায়। তাই চতুর্থবারের জন্য বেছে নিন তৃণমূল কংগ্রেসকে।’
ভোট প্রচারে তৃণমূল নেতারা বলছেন, ‘বাংলায় আছে স্থায়ী সরকার। এই সরকার ২০১১ সাল থেকে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখেছে। সেই ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় তৃণমূল।’ রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভায় তৃণমূল সরকাররে আমলে কী কী উন্নয়ন হয়েছে, বিধানসভা ভিত্তিক পৃথক ইস্তাহারে তাও তুলে ধরবে তৃণমূল। তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, দেশের অন্য রাজ্যগুলির থেকে বাংলার চরিত্র সম্পূর্ণ আলাদা। এই রাজ্যে তৃণমূল একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা নিয়েই সরকার গঠন করেছে। এরকম একটি স্থায়ী সরকার আছে বলেই কেন্দ্রের আর্থিক বঞ্চনার পরেও বাংলার বাড়ির টাকা রাজ্য নিজস্ব তহবিল থেকে দিতে পারছে।’
২০২৬ সালে তৃণমূল পুনরায় ক্ষমতায় এলে কী করবে, তার সুদূরপ্রসারী চিন্তাভাবনার প্রতিফলন রয়েছে তাদের ইস্তাহারে। তৃণমূল প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে বাংলা ৪০ লক্ষ কোটি টাকার অর্থনীতির রাজ্য হিসাবে আত্মপ্রকাশ করবে। রাজ্যের কর্মজীবী মহিলাদের জন্য নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী মূল্যে বাসস্থান নিশ্চিত করা হবে। প্রতিটি জেলায় অন্তত একটি করে কর্মজীবী মহিলাদের হস্টেল হবে। পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান এবং শিল্পোদ্যোগের সুযোগ তৈরির মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে এক্ষেত্রে মহিলাদের অংশগ্রহণ ৪৪.৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হবে। ‘অপরাজিতা বিল’ বাস্তবায়নে রাষ্ট্রপতির সম্মতি আদায়ের জন্য প্রচেষ্টা ও সংগ্রাম তীব্র করা হবে। রাজ্যে ১০ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে। প্রতিটি ব্লক ও পুরসভায় তফসিলি সহায়তা সেল গঠনের কথাও বলা হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গ পরিণত হবে পূর্ব ভারতের মেডিক্যাল ট্যুরিজমের প্রধান গন্তব্যে।