


নয়াদিল্লি: কোনও দেশের আর্থিক শক্তি বিচার করা হয়, সেই দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার দেখে। বর্তমানে যে দেশের কাছে যত ডলার মজুত রয়েছে, তারা আর্থিক ভাবে তত ক্ষমতাবান হিসেবে বিবেচিত হয়। ভারত এই তালিকায় যথেষ্ট উপরের দিকে থাকলেও, পাকিস্তানের অবস্থা কিন্তু ‘ভাঁড়ে মা ভবানী’র মতোই।
বর্তমানে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৬৮৮ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। যেখানে পাকিস্তানের কাছে রয়েছে মাত্র ১৫ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু ১৯৪৭ সালে দুটি দেশের শুরু হয়েছিল একই সময়ে। একই যাত্রায় পথিক হয়েও আজ ভারত এই তালিকায় পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে বহুগুণ এগিয়ে রয়েছে। কিন্তু ঠিক কোন কোন ভুলে পিছিয়ে পড়ল পাকিস্তান?
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ১৯৬০-এর দশকে পাকিস্তান শিল্পে কিছুটা সাফল্য অর্জন করে। কিন্তু বারবার রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামরিক শাসন চলে আসায় অর্থনীতির চাকা সঠিক ছিল না। ফলে বাণিজ্যের দিক থেকে ক্রমশ পিছিয়ে পড়ে পাকিস্তান। যা দেশটির অর্থনীতির ভিতকে দুর্বল করে তোলে।
অন্যদিকে, রপ্তানির ক্ষেত্রেও পাকিস্তান নির্দিষ্ট কিছু জিনিসের মধ্যেই নিজেদেরকে সীমাবদ্ধ রেখেছিল। সস্তায় পোশাক রপ্তানি করতে থাকলেও তা বেশিদিন পাকিস্তানকে অক্সিজেন জোগাতে পারেনি। একই সময়ে, জ্বালানির মতো জিনিসের আমদানিও বাড়তে থাকে। এর ফলে পাকিস্তানের ঘাটতি বৃদ্ধি পায় ও বৈদেশিক ঋণও চড়চড় করে বাড়ে। যার জেরে গোঁত্তা খেয়ে পড়ে পাক অর্থনীতি।
এছাড়াও, ভারত ১৯৯১ সালের পর থেকে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করেছে। পাশাপাশি বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয়রা প্রচুর পরিমাণে ডলার এদেশে পাঠান। কিন্তু পাকিস্তানে বিদেশ থেকে খুব কম রেমিট্যান্স আসার প্রবণতা রয়েছে। যেটুকু অর্থ আসে, তারও বেশিটাই আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি থেকে। ফলে বৈদেশিক অর্থ আসার পথ পাকিস্তানের জন্য আরও সংকুচিত হয়েছে। যা পাক অর্থনীতিকে খাদের কিনারায় এনে দাঁড় করিয়েছে।