Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এসআইআরে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার বিরুদ্ধে ফুঁসছে তেভাগা আন্দোলনের মাটি

প্রায় ৮০ বছর আগের ঘটনা। সালটা ছিল ১৯৪৬। জমিদারদের শোষণের বিরুদ্ধে এবং ফসলের ন্যায্য অধিকারের দাবিতে গড়ে ওঠে তেভাগা আন্দোলন।

এসআইআরে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার  বিরুদ্ধে ফুঁসছে তেভাগা আন্দোলনের মাটি
  • ২ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

রাহুল চক্রবর্তী, বালুরঘাট: প্রায় ৮০ বছর আগের ঘটনা। সালটা ছিল ১৯৪৬। জমিদারদের শোষণের বিরুদ্ধে এবং ফসলের ন্যায্য অধিকারের দাবিতে গড়ে ওঠে তেভাগা আন্দোলন। যা অবিভক্ত বাংলার ইতিহাসে কৃষক সংগ্রামের এক উজ্জ্বল অধ্যায়। স্লোগান উঠেছিল, ‘নিজের ধান নিজের গোলায়’। উৎপাদিত ফসলের তিন ভাগের দু’ভাগ নিজেদের গোলায় রাখার দাবিতে জমির মালিকদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছিলেন ভাগচাষিরা। ২২ জন কৃষক আত্মবলিদান দিয়েছিলেন। দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট ব্লকের খাঁপুর এলাকা সেই আন্দোলনের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। এত বছর পর ২০২৬ সালে এসআইআর আবহে বালুরঘাটের মানুষজন ঐতিহাসিক তেভাগা আন্দোলনের কথাই স্মরণ করছে। এখন তাই আম জনতার মনে প্রশ্ন, ভারতের নাগরিকত্বই অস্বীকার করা হবে না তো? ভোটাধিকার রক্ষা পাবে? উৎপাদিত ফসলের জন্য যে লড়াই তাঁদের পূর্বপুরুষরা লড়েছিলেন, এখন কি ভোটাধিকার রক্ষায় সেরকম আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তৈরি হচ্ছে? 

Advertisement

বালুরঘাট বাসস্ট্যান্ডের সামনে দাঁড়িয়ে সেই কথাই বলছিলেন বিট্টু সাহা।  বলছিলেন, ‘তেভাগা আন্দোলন ইতিহাসের পাতায় পড়েছি। আজ এক অন্য লড়াই দেখছি। আমি ভোট দিতে পারব তো, এই প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছি।’ সুশান্ত প্রামাণিক বলেন, ‘৭৮ বছর বয়স আমার। এখন যদি আমায় দাঁড়িয়ে বলতে হয়, আমি এ দেশের নাগরিক, তাহলে প্রশ্ন জাগে, স্বাধীনতার পর কীভাবে এতবার ভোট দিলাম!’ জন সাধারণের এই প্রশ্নগুলিই বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করছে তৃণমূল কংগ্রেস। যে বালুরঘাট থেকে তেভাগা আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, সেখান থেকে এসআইআর বিরোধী আন্দোলন আরও জোরদার করার আওয়াজ উঠেছে। তৃণমূলের বক্তব্য, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার ছ’টি বিধানসভা আসনেই বিজেপিকে হারাতে হবে। 
তবে লড়াইটা বেশ কঠিন! টানা ১০ বছর এই কেন্দ্রে তৃণমূলের বিধায়ক নেই। ২০১১ সালে এখান থেকে শেষবার জিতেছিলেন তৃণমূলের শংকর চক্রবর্তী। ২০১৬ সালে জেতেন আরএসপির বিশ্বনাথ চৌধুরী। আর ২০২১ সালে জয়ী হন বিজেপির অশোক লাহিড়ী। যদিও এবারের তৃণমূল প্রার্থী অর্পিতা ঘোষের কথায়, ‘শহর থেকে গ্রাম, এই কেন্দ্রে মানুষ তৃণমূলের প্রতি তাদের উজাড় করা সমর্থন দেবে। কারণ, বিজেপির বিধায়ক ভদ্র, শিক্ষিত মানুষ। কিন্তু তাঁর জনসংযোগ নেই। তার উপর বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়ে রক্ষা করতে পারেনি। এই দুই অঙ্কে বাড়বে তৃণমূলের প্রতি সমর্থন।’ এই কেন্দ্রের বাম প্রার্থী, আরএসপির অর্ণব চৌধুরী। বিজেপির প্রার্থী বিদ্যুৎ কুমার রায়। তবে নামডাক বা পরিচিতির দিক থেকে তৃণমূল প্রার্থী বাকিদের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে বলে দাবি শহরবাসীর একাংশের। 
জেলার কুশমন্ডি বিধানসভা আসনে ২০২১ সালে তৃণমূলের রেখা রায় জয়ী হয়েছিলেন। এবারও তাঁকেই টিকিট দিয়ে এই কেন্দ্রে জয় ধরে রাখছে তৃণমূল। কুমারগঞ্জ আসনে বিধায়ক তোরাফ হোসেন মণ্ডলকেই ফের প্রার্থী করেছে জোড়াফুল শিবির। হরিরামপুরের বিদায়ী বিধায়ক বিপ্লব মিত্র এবারও প্রার্থী। এই কেন্দ্রগুলিতে তৃণমূলের একজোট হয়ে লড়াই ইতিবাচক ফল দেবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। গঙ্গারামপুর এবং তপন বিধানসভা কেন্দ্র গতবার বিজেপি জিতেছিল। তাই এই দু’টি কেন্দ্রের দিকে তৃণমূলের বাড়তি নজর রয়েছে। তপনে চিন্তামণি বিহা এবং গঙ্গারামপুরে গৌতম দাসকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। ভোট প্রচারে এসে ছয় তৃণমূলের প্রার্থীকে সঙ্গে নিয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ডাক দিয়েছেন, ‘এবার বহিরাগত বিজেপিকে জবাব দেওয়ার পালা ৬-০ তে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ