নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ঘটনাস্থল বড়তলা থানা এলাকার অন্তর্গত সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের ফুটপাত। বাবা-মায়ের সঙ্গে ঘুমন্ত ঘুমনো সাত মাসের পথ শিশুকন্যাকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে এক ব্যক্তি। তদন্তে নেমে বিভ্রান্তিতে পড়ে কলকাতা পুলিশ। ঘটনাস্থলে কোনও সিসি ক্যামেরা ছিল না। আশপাশের আটটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশ। একজন সন্দেহভাজন মিললেও, তাকে অভিযুক্ত হিসেবে নিশ্চিত করতে পারছিল না উর্দিধারীরা। শেষে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত যুবকই যে শিশুকন্যা ধর্ষণে অভিযুক্ত—তা নিশ্চিত করতে ‘গেট প্যাটার্ন’ বা হাঁটাচলার ধরণ বিশ্লেষণের বৈজ্ঞানিক উপায়ের দ্বারস্থ হতে হয় তদন্তকারীদের। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তারপর গেট প্যাটার্ন পদ্ধতির সাহায্য নিতে গিয়ে বেশ কয়েকদিন সময় ‘নষ্ট’ হয় বলে দাবি পুলিশের। এহেন সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে এবার নয়া সফটওয়্যার আনছে লালবাজার। যার নাম ‘ফরেন্সিক স্টুডিও’। তদন্তকারীদের মধ্যে যা সিসি ক্যামেরা ‘ম্যানেজার’ হিসেবে বিশেষ পরিচিত। অপরাধ ও অপরাধী নির্ধারণে কীভাবে কাজ করে এই বিশেষ সফটওয়্যারের? পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনাস্থলের আশপাশের একাধিক সিসি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে পুলিশের চিহ্নিত করা কোনও সন্দেহভাজনের গতিবিধি এক নিমেষে জানতে পারবেন তদন্তকারীরা। এতে সুবিধা হল, মনিটরের সামনে চোখ রেখে, সময় ধরে ধরে আর অভিযুক্তের গতিবিধি চিহ্নিত করতে হবে না পুলিশকে। অনেক সহজেই এবার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ প্রযুক্তিগত উপায়ে বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তের ‘রুট-ম্যাপ’ বাতলে দেবে ফরেন্সিক স্টুডিও তথা নয়া এই সফটওয়্যার। লালবাজার সূত্রে খবর, কোনও অপরাধের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত অপরিচিত হলে, এই সফটওয়্যারটি বিশেষভাবে প্রয়োজন পড়বে। প্রাথমিকভাবে দুঁদে গোয়েন্দাদের চোখ সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করবেন। কিন্তু, ঘটনাস্থলের আশপাশে কখন, কোন রাস্তায় সে ঘোরাফেরা করেছে? অপরাধের সংঘটনের পর কোন রাস্তা দিয়ে পালিয়েছে? এসব জানা যাবে কীভাবে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংগ্রহ করা সিসি ক্যামেরাগুলির যাবতীয় ফুটেজ সফটওয়্যারে দিতে হবে। এরপরে সেই ফুটেজ থেকে সন্দেহভাজনের গতিবিধি পেতে হলে চিহ্নিত ব্যক্তির ‘ক্রপ’ করা ছবি আপলোড করতে হবে সফটওয়্যারে।



