Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

ঘণ্টেশ্বরদেবের গাজন

এ এক অন্য গাজন। এ গাজনের মূল আকর্ষণ জলে ঝাঁপ দেওয়া।

ঘণ্টেশ্বরদেবের গাজন
  • ২৮ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

এ এক অন্য গাজন। এ গাজনের মূল আকর্ষণ জলে ঝাঁপ দেওয়া। কয়েকশো বছরের প্রাচীন এই ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন খানাকুলের উবিদপুরের মানুষজন। এখানেই রয়েছে ঘণ্টেশ্বর মন্দির। এই মন্দিরের কাছেই রয়েছে একটি পুকুর। সেখানেই জলে ঝাঁপ দিয়ে গাজন পালন করেন ভক্তরা। সেই জন্য পুকুরের নামও ঝাঁপ পুকুর। চৈত্র সংক্রান্তিতে বিশেষ এই রীতি ঘিরে খানাকুল সহ পার্শ্ববর্তী এলাকার হাজার হাজার মানুষ জমায়েত হয়। সারা বছর বাবা ঘণ্টেশ্বরকে ফুল, মিষ্টি দিয়ে পুজো দেওয়া হয়। সেগুলিই ভক্তরা প্রসাদ হিসেবে পান। তবে গাজন উপলক্ষ্যে কয়েকদিন দুধ ও চাল দিয়ে তৈরি মনুই ভোগ হিসেবে বাবাকে নিবেদন করা হয়। সেইজন্য আগে মা কামাখ্যার পুজো করেন পুরোহিত। প্রথম দিনের মনুই ভোগ জলে দেওয়া হয়। বহু ভক্ত মানত করেন এখানে। ফলে কয়েকদিন গাজন দেখতে খানাকুল সহ দূোর দূরান্ত থেকে ভক্তরা আসেন। উবিদপুর, খানাকুল, রামনগর, দাইনান, রাধাবল্লভপুর এই পাঁচটি গ্রামের বাসিন্দাদের নিয়ে গাজনের কমিটি তৈরি করা হয়। সেইজন্য প্রত্যেক বছর নিয়ম করে ঢেড়া পিটিয়ে তা জানানো হয়। 

Advertisement

নীল পুজো ও চৈত্র সংক্রান্তিতে মন্দির চত্বরে মেলা বসে। সঙ্গে কয়েক হাজার সন্ন্যাসী ভক্ত। ফলে কয়েকদিন জমজমাট হয়ে ওঠে গাজন প্রাঙ্গণ। জলে ঝাঁপের দিনে বিপুল লোক সমাগম হয়। গাজন উপলক্ষ্যে প্রথম দিন মনুই ভোগ দেওয়া হয়। পরের দিনের মনুই ভোগ ভক্তদেরও বিলি করার রীতি রয়েছে। বাবার কাছে বহু ভক্ত সন্ন্যাসী হয়ে ব্রত করেন। তবে ভক্ত হতে গেলে বহু রীতিনীতি পালন করতে হয়। নীল পুজোর দিন বান ফোঁড়ার রীতিও এখানে রয়েছে। তারসঙ্গে চৈত্র সংক্রান্তির দিন ঝাঁপ পুকুরে ধ্বজা পোতা হয়। বাবা ঘণ্টেশ্বরের কাছ থেকে ফুল নিয়ে যাওয়া হয় পুকুরে। তারপর পুকুরে মূল সন্ন্যাসী প্রথম ঝাঁপ দেন। ধাপে ধাপে অন্যান্য সন্ন্যাসীরা পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে স্নান করেন। তারপর সেখানে জমায়েত হওয়া হাজার হাজার ভক্ত ঝাঁপ দিয়ে স্নান করেন। স্নান সেরে ভক্তরা দণ্ডি কেটে মন্দিরে আসেন। বাবার প্রসাদী ফল ছোড়ার রীতি রয়েছে। ভক্তরা সেই ফল প্রসন্ন চিত্তে গ্রহণ করেন। সেইজন্যও বিপুল জমায়েত হয়। এমনকী, গাজন উপলক্ষ্যে বাজি ফাটানোর চলও রয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ