


অনির্বাণ রক্ষিত: ভারতের যে কোনো পার্বত্য অঞ্চলে গেলে দেখা পাওয়া যায় ম্যাল রোড। পাহাড়ি উপত্যকার উঁচু এবং সমতল অংশে ভিড় জমান স্থানীয় বাসিন্দা থেকে পর্যটকেরা। রাজ্য থেকে শুরু করে দেশের একাধিক পার্বত্য অঞ্চলে একটি করে ম্যাল রোড থাকে। কিন্তু, কেনও থাকে এই রোড? এর নাম ম্যাল রোড হওয়ার কারণই বা কী জানা আছে? শিমলা থেকে মানালি, নৈনিতাল, দার্জিলিং আপনি যেখানেই যান না কেন ঠিক সেখানেই ম্যাল রোডের সন্ধান পাওয়া যাবে। প্রতিটি পাহাড়ি অঞ্চলেই যে মল রোড রয়েছে তা আজকের নয়। ব্রিটিশ আমল থেকে তৈরি। ঊনবিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশরা পাহাড়ি স্টেশনে ম্যাল রোড তৈরি করেছিলেন। ম্যাল রোড নামকরণ হওয়ার কারণ কী? মূলত ব্রিটিশ আমলে পাহাড়ি এলাকাগুলিতে বিবাহিত আফিসাররা তাঁদের পরিবার নিয়ে থাকতেন একদিকে। আর অবিবাহিতরা থাকতেন অন্য দিকে। তাই ব্রিটিশ সামরিক বাহিনী এই নিয়ম অনুযায়ী রাস্তার নাম রেখেছিলেন Married Accommodation and Living Line রোড। যা পরবর্তীতে ম্যাল রোড নামে পরিচিতি লাভ করে। আসলে ব্রিটিশরা গরম সহ্য করতে পারতেন না। তাই তাঁরা পাহাড়ি এলাকা বেছে নিতেন বসবাসের জন্য। লন্ডনের বিখ্যাত ‘The Mall’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ভারতে মল রোডের ধারণা আসে। লন্ডনে ‘দ্য মল’ হলো একটি প্রশস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, যেখানে রাজকীয় অনুষ্ঠান ও শোভাযাত্রা হয়।
ব্রিটিশরা সেই ধাঁচেই ভারতের হিল স্টেশনগুলিতে মল রোড তৈরি করে। সেই যুগে চল ছিল, সন্ধ্যা নামলেই পাহাড়ি উঁচু সমতল ভূমির উপর দিয়ে হেঁটে যাবেন সাহেব ও মেমসাহেবরা। সাধারণত শহরের সবচেয়ে সমতল ও সুন্দর জায়গায় এই রাস্তা তৈরি করা হত। ধীরে ধীরে দোকান, হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও অফিস গড়ে ওঠে এই রাস্তার আশেপাশে। ফলে, মল রোডই হয়ে ওঠে হিল স্টেশনের প্রাণকেন্দ্র, যাকে ঘিরেই পুরো শহরের বিকাশ ঘটে। আজও মল রোডে সবচেয়ে বেশি দোকান, রেস্তোরাঁ ও মানুষের জমায়েত দেখা যায়। যেমন উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে, সিমলার মল রোডের নাম। সেখানকার ঐতিহাসিক স্থাপত্য ও খ্রিস্ট চার্চও পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয়। এ ছাড়াও রাজ্যের পাহাড়ের রানি দার্জিলিংয়েও রয়েছে মল রোড। যেখান থেকে দাঁড়িয়ে আকাশ পরিষ্কার থাকলে দূরের কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য চোখে পড়ে। অন্য দিকে, আবার নৈনিতালের মল রোড রয়েছে একদম লেকের ধার ঘেঁষেই।