Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নববর্ষে দুধ ফুটিয়ে উথলে ফেলার প্রথা ধরে রেখেছেন মালতীদেবীরা

বাপ-ঠাকুরদার আমল থেকে নববর্ষের দিনে ভোরবেলা দুধ ফুটিয়ে উথলে ফেলে দেওয়ার প্রথা এখনও ধরে রেখেছেন রানিনগরের মালতীলতা দাস।

নববর্ষে দুধ ফুটিয়ে উথলে ফেলার প্রথা ধরে রেখেছেন মালতীদেবীরা
  • ১৫ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

তামিম ইসলাম, ডোমকল: বাপ-ঠাকুরদার আমল থেকে নববর্ষের দিনে ভোরবেলা দুধ ফুটিয়ে উথলে ফেলে দেওয়ার প্রথা এখনও ধরে রেখেছেন রানিনগরের মালতীলতা দাস। বার্ধক্যে চামড়া কুঁচকে গিয়েছে। তবু এখনও পূর্ববঙ্গের এই রীতি পালন করতে ভোলেন না তিনি। নববর্ষের দিনে সকালে ঘুম থেকে উঠে, স্নান সেরে পুজোর পর কিছুটা দুধ ফুটিয়ে উথলে ফেলেন তিনি। মালতীদেবী একা নন, পূর্ববঙ্গের ভিটে ছেড়ে জলঙ্গি, রানিনগর, সাগরপাড়ার চরে যে সমস্ত পরিবার উঠে এসেছে, নববর্ষে তারা এই রীতি মেনে পুরনো স্মৃতিতে ডুব দেন।

Advertisement

ছয় ও সাতের দশকে পূর্ববঙ্গের অনেক হিন্দু পরিবার এসমস্ত এলাকায় বসতি গড়েছিল। তাঁদের কেউ কেউ বাংলাদেশে ফিরে গেলেও অনেকেই এদেশের মায়া ছাড়তে পারেননি। তাঁরা এদেশেই থেকে গিয়েছেন। অনেক পরিবারই এখন ভারতে প্রতিষ্ঠিত। ওই সমস্ত পরিবারের ছোটরা পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক পরিবেশেই বড় হয়ে উঠেছে। তবে বাড়ির বয়ঃজেষ্ঠদের অন্তরে এখনও পূর্ববঙ্গের সংস্কৃতি, রীতিনীতি বেঁচে আছে। নববর্ষের দিনে পূর্ববঙ্গের আত্মীয়স্বজন, ইলিশ ও পান্তা ভাতের কথা মনে পড়ে অনেকেরই।
ছয়ের দশকে বাবা-কাকার হাত ধরে এখানে এসেছিলেন মালতীলতা দাস। রাজশাহীর বর্ধিষ্ণু পরিবারের মেয়ে মালতীদেবী তখন সবে কুড়ি বছরে পা দিয়েছেন। এখন ৮৫ ছুঁইছুঁই মালতিদেবীর স্পষ্ট মনে আছে, পুরনো ভিটেতে নববর্ষের কথা। তিনি বলেন, তখন ওখানে নববর্ষে খুব ধুমধাম হতো। খুব ভোরে বাড়ির মেয়েদের সঙ্গে আমরা উঠে পড়তাম। মা-দিদিমাদের দেখতাম, স্নান সেরে, লালপেড়ে শাড়ি পরে ভগবতী পুজো করতেন। সকালে গোরুদের স্নান করিয়ে, তাদের কপালে সিঁদুর পরিয়ে এই পুজো শুরু হতো। আমরা পরিষ্কার গোয়ালঘরে সুন্দর করে আলপনা আঁকতাম। ওইদিন গোরুকে তার পছন্দের খাবার খেতে দেওয়ার পাশাপাশি মিষ্টিমুখও করানো হতো। গোরুর দুধ দুইয়ে সেই দুধ গোয়ালঘরেই জ্বাল দেওয়া হতো। সেই দুধ উথলে ওঠা পর্যন্ত মা-দিদিমারা অপেক্ষা করতেন। তাঁরা বলতেন, দুধ যত বেশি উথলে উঠবে, বাড়ির গোরুর দুধের পরিমাণ তত বাড়বে। সেই দুধে আমরা সারাবছর দুধে-ভাতে থাকতে পারব। মা-দিদিমা কেউ আর নেই। এখন এদেশে থাকলেও প্রতিবছর নববর্ষের দিনে দুধ ফুটিয়ে কিছুটা উথলে ফেলে দিই আমি। ফেলে আসা ছোটবেলার জন্য খুব মন খারাপ করে।
জলঙ্গির বাসিন্দা অঞ্জলি দাস বলেন, আমাদের বাড়ি ছিল খুলনায়। পয়লা বৈশাখের সকালে বাড়ির সবাই মিলে খুব ভোরে স্নানের মজাটাই ছিল অন্যরকম। নববর্ষের সময় আত্মীয়রা বাড়িতে নামকরা দোকানের মিষ্টি পাঠাত। নতুন জামা পরে মিষ্টিমুখ করে বছরের প্রথম দিনটা কাটত।

সম্পর্কিত সংবাদ