Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

জানবাজারের সেই কালীপুজো এখন হয়ে উঠেছে ব্র্যান্ড ‘স্বর্ণ’

১৯৬৯ সাল। ধর্মতলা সংলগ্ন জানবাজারে কালীপুজো শুরু করলেন তৎকালীন কংগ্রেস নেতা স্বর্ণকমল সাহা। একটি গলিতে ছোট আকারে হতো পুজো।

জানবাজারের সেই কালীপুজো এখন হয়ে উঠেছে ব্র্যান্ড ‘স্বর্ণ’
  • ১৭ অক্টোবর, ২০২৫ ১৬:১০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ১৯৬৯ সাল। ধর্মতলা সংলগ্ন জানবাজারে কালীপুজো শুরু করলেন তৎকালীন কংগ্রেস নেতা স্বর্ণকমল সাহা। একটি গলিতে ছোট আকারে হতো পুজো। সেটি এস এন ব্যানার্জি রোডে জানবাজারে বড় রাস্তার উপর নিয়ে আসলেন তিনি। ছোট গলিতে হতো জগদ্ধাত্রী পুজোও। সেটিও স্থান পেল বড় রাস্তায়, বড় পরিসরে। উত্তর ও মধ্য কলকাতায় তখন সোমেন মিত্রের আমহার্স্ট স্ট্রিটের কালীপুজোর রমরমা। হইহই ব্যাপার তা ঘিরে। সোমেনের কালীপুজোর প্যান্ডেল, প্রতিমা সব নম্বর ওয়ান। সে সময় যুব সংগঠন করা স্বর্ণকমল ঠিক করলেন সবাইকে নিয়ে জানবাজারে কিছু একটা করে দেখাতে হবে। চারটি খুঁটির উপর কাপড় দিয়ে প্যান্ডেল আর হবে না। হবে প্লাইউডের জাঁকজমকপূর্ণ মণ্ডপ। সময়ের হাত ধরে জানবাজারের সে কালীপুজো হয়ে উঠেছে ‘ব্র্যান্ড স্বর্ণ’।

Advertisement

কলকাতায় যে ক’টি বড় মাপের কালীপুজো হয়, তার মধ্যে জানবাজার সম্মিলিত কালীপুজো তালিকার প্রথমেই আছে। বড় বাজেটের এবং আলোড়ন ফেলে দেওয়া কলকাতার পুজোগুলির মধ্যে এটি অন্যতম। জানবাজার সম্মিলিত কালীপুজোর সেরা আর্কষণ হল দশ মহাশক্তির আরাধনা। নিষ্ঠা, ভক্তি ও পরম্পরার সঙ্গে দশরূপে পুজো হয় দেবীর। পুজোর নিয়ম-রীতি অনুসরণ হয় নির্দিষ্ট পদ্ধতি মেনে। কলকাতার লোকজন ছাড়াও দূর-দূরান্তের মানুষ আসেন ঠাকুরের পায়ে একবার মাথা ঠেকাতে। তাছাড়া শিয়ালদহ, ধর্মতলা চত্বরে কর্মসূত্রে আসা লোকজন একবার সময় বের করে ঘুরে যান জানবাজার কালীপুজো।
এবারে রাজস্থানের জয়পুরের একটি প্যালেসের আদলে তৈরি হচ্ছে মণ্ডপ। সেই সঙ্গে থাকছে রাস্তাজুড়ে আলোর কারুকাজ। মণ্ডপের একপাশে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের একটি রেপ্লিকা তৈরি করা হয়েছে। বার্তা দেওয়া হয়েছে, কেন দিঘা এখন পর্যটনের সেরা গন্তব্য হয়ে উঠেছে। ১৭ তারিখ পুজোর উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানবাজার সম্মিলিত কালীপুজোর প্যান্ডেল তৈরি হচ্ছে দুর্গাপুজোর আগে থেকে। রাস্তার উপর প্যান্ডেল হয়। তবে যানবাহন চলাচল যাতে বিঘ্নিত না হয় তাও লক্ষ্য রাখা হয়। দীর্ঘদিন ধরে পুজোর হাল ধরে রেখেছেন স্বর্ণকমল সাহা। ‘স্বর্ণের পুজো’ নামেই তার পরিচিতি। সত্তরোর্ধ্ব স্বর্ণকমলবাবু জানান, এলাকার মানুষ পাশে আছেন বলেই পুজো এত সুন্দরভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাচ্ছে। কাপড়ের প্যান্ডেলের সঙ্গে লড়াই করে আজ জানবাজারের বুকে হচ্ছে থিমের প্যান্ডেল। তা করতে কম লড়াই করতে হয়নি। রাজনীতির অনেক কুশীলবের সঙ্গে লড়তে হয়েছিল। সব তোলা থাকল আত্মজীবনীর ডায়েরিতে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ