ডোনাট। নামটা শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে মাঝখানে গর্তওয়ালা পেস্ট্রি জাতীয় খাবার। শুরুর দিকে অবশ্য ডোনাটের এমন চেহারা ছিল না। ডোনাটকে নতুন রূপ দেন হ্যানসন গ্ৰেগরি। এই মার্কিন নাবিকের হাত ধরেই যেন পুনর্জন্ম ঘটেছিল ডোনাটের। তবে সেটা প্রমাণ করতে অবশ্য রীতিমতো মামলা মোকদ্দমায় জড়াতে হয়েছিল গ্ৰেগরিকে।
ডোনাট আদতে তেলেভাজার ডাচ সংস্করণ। নাম ছিল ‘ওলিকোয়েক’। ব্যবসার খাতিরে উনিশ শতকের শুরুর দিকে ওয়াশিংটন সংলগ্ন অঞ্চলে বসতি স্থাপন করে একাধিক ডাচ পরিবার। তাদের হাত ধরেই মার্কিনদের খাদ্যতালিকায় জায়গা করে নেয় এই ‘ওলিকোয়েক’। সেখানে অবশ্য তা জনপ্রিয় ছিল ‘অয়েল কেক’ হিসেবেই। ময়দার তালের মিশ্রনকে তেলে ভেজে তৈরি হতো এই অয়েল কেক। তবে এই আকারের কারণে দেখা দিল এক অদ্ভুত সমস্যা। অধিকাংশ সময় ডোনাটের বাইরের অংশ ভালো ভাজা হলেও ভিতরটা কাঁচাই থেকে যেত। মাঝখানের এই গর্তটি তৈরি করে মুশকিল আসান করেছিলেন গ্ৰেগরি। জাহাজ যাত্রা দীর্ঘদিনের। তাই স্বাস্থ্য ঠিক রাখা খুব জরুরি। এক সময় সহ নাবিকদের স্বাস্থ্য নিয়ে রীতিমতো চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন গ্রেগরি। ডোনাট বানানো খুব একটা কঠিন কাজ নয়। এই সময়ে ডোনাটের আকার নিয়ে বিস্তর পরীক্ষা নিরীক্ষা শুরু করলেন তিনি। শেষে মাথায় একটি মজার বুদ্ধি খেলল। ডোনাটের তাল তৈরির পর বোতলের ঢাকনা দিয়ে মাঝখানে একটা ছিদ্র তৈরি করলেন। তাতেই মিলল সাফল্য। ১৯১৬ সালে ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’ পত্রিকায় গ্ৰেগরির একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়। যার মূল আকর্ষণ ছিল ডোনাটের আবিষ্কার। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয় তুমুল বিতর্ক। ১৯৪১ সালের নভেম্বরে নিউ ইয়র্কের অ্যাস্টর হোটেলে হয়েছিল ডোনাট মামলার শুনানি। বিশিষ্টদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন ম্যাসাচুসেটস ও মেইনের সাধারণ মানুষ। সকলেই সমর্থন জানিয়েছিলেন এই মার্কিন নাবিককে। ততদিনে অবশ্য গ্ৰেগরি গত হয়েছেন। তাঁর হয়ে মামলা লড়েছিলেন ভাইপো। বিস্তর তর্ক-বিতর্কের পর রায় যায় গ্ৰগরির পক্ষে।