শুভদীপ রায়, কলকাতা: হাওড়া থেকে লঞ্চে চেপে নিমতলা ঘাট। তারপর আহিরীটোলা, কুমোরটুলি ঘুরে বাগবাজার। খান দশেক বড় পুজো হয় এই পথে। বাগবাজার বাদ দিলে অধিকাংশই থিমের দখলে। তার মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হয় কয়েকটা পুজোর কথা। প্রথমেই আহিরীটোলা সর্বজনীন। ৮৬তম বর্ষে উত্তর কলকাতার এই ক্লাবের থিম ‘প্রবাহ’। মণ্ডপসজ্জা ও সামগ্রিক পরিকল্পনায় অনির্বাণ দাস। প্রবাহ বলতে জীবনের বহমান ধারাকে বোঝাতে চেয়েছেন শিল্পী। জন্ম থেকে মৃত্যু, বড় হওয়া সবই চলছে নির্দিষ্ট ছন্দে। আমাদের চারপাশে যা কিছু রয়েছে, তার প্রতিটা অংশের মধ্যে সেই চিরন্তন সত্যি প্রবহমান। সবকিছুর মূলে রয়েছেন দেবী আদ্যাশক্তি মহামায়া। অনির্বাণ জানালেন, ‘মণ্ডপ জুড়ে থাকবেন মূকাভিনয়ের শিল্পীরা। তাঁদের বিশেষ পারফরম্যান্সের মধ্যে দিয়ে আমার ভাবনা ব্যক্ত হবে।’ মণ্ডপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই তৈরি হচ্ছে প্রতিমা। উদ্যোক্তাদের আশা এবারও মণ্ডপে ভালোই ভিড় হবে।
কয়েক পা এগলেই আহিরীটোলা যুবকবৃন্দ। ৫৫তম বর্ষে এই ক্লাবের ভাবনা ‘রোশনাই’। নামেই বোঝা যায় মণ্ডপ হবে ঝলমলে আলোয় মোড়া। তবে স্রেফ আলো নয়, সঙ্গে থাকবে ছায়াও। সৃজন শিল্পী বিমল সামন্ত জানালেন, ‘আমাদের সমাজের বড় একটা অংশ অন্ধকারে ঢাকা। সেটাকে সরানোর জন্য প্রয়োজন আলো। অর্থাৎ রোশনাই।’ মণ্ডপ জুড়ে থাকবে রঙিন কাচ। তার মধ্যে দিয়ে আলো পড়লে প্রতিফলন হবে রঙিন। প্রতিমাতেও থাকছে বিশেষত্ব। দেবী দশপ্রহরণধারিনী দুর্গা এখানে মাতৃরূপিনী। লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ কিংবা কার্ত্তিকের চেহারাতেও প্রসন্নতা ধরা পড়ছে। যেন দশহাতে সমাজের যাবতীয় অন্ধকার সরিয়ে আলো জ্বালিয়েছিলেন দেবী। প্রতিমা গড়ছেন শিল্পী নব কুমার পাল। এখান থেকে বাগবাজারের দিকে না ঘুরে রাজবল্লভ পাড়ার দিকে এগোলেই জগৎ মুখার্জি পার্ক। ৮৯ তম বর্ষে এই ক্লাবের ভাবনায়,‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আশীর্বাদ না অভিশাপ?’ শিল্পী সুবল পালের ভাবনায় তৈরি হচ্ছে মণ্ডপ। জানালেন, সময় যত এগচ্ছে আরও উন্নত হচ্ছে এআই। এর প্রভাবে ভবিষ্যতের পৃথিবীটা কেমন হতে পারে সেই আঁচ মিলবে জগৎ মুখার্জি পার্কে। মণ্ডপের মাঝের অংশটা টাইম মেশিনের আদলে তৈরি। তার মধ্যে দিয়ে দর্শকরা পৌঁছে যাবেন এআই দুনিয়ায়। সেখানে প্রযুক্তির চমক তো থাকছেই, একইসঙ্গে থাকছে আগামীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কতটা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে, সেই বিপদের আভাস। তবে এই অংশে স্বয়ং দেবী দুর্গা থাকবেন। দশহাতে এআই অসুরকে বধ করবেন তিনি।
এর কাছেই শ্যামবাজার পল্লীসংঘ। ৬৫তম বর্ষে তাদের ভাবনা ‘আবেশ’। মণ্ডপ তৈরি হচ্ছে পুরনো ভাঙা বাড়ির আদলে। সেখানে অপেক্ষা করছেন এক বৃদ্ধ। সন্তান বড় হয়ে দূরে চলে গেলে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের অপেক্ষা ছাড়া কিছুই করার থাকে না। পল্লীসঙ্ঘের মণ্ডপ নিষ্ঠুর বাস্তবটাই তুলে ধরবে। মণ্ডপসজ্জার দায়িত্বে অর্ক চক্রবর্তী। প্রতিমায় নব কুমার পাল।