নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলিঙ্গ স্টেডিয়ামে তখন মুম্বই সিটি বনাম ইন্টার কাশী ম্যাচ চলছে। ভিআইপি গ্যালারিতে সাপোর্ট স্টাফ ও নুনো রেইসকে নিয়ে হাজির মোহন বাগান কোচ বাস্তব রায়। কয়েক হাত দূরেই কার্ল ম্যাকহাগ, ব্রাইসনরা বসে। হাই-হ্যালো মার্কা হাল্কা সৌজন্যের বেশি কথা এগয়নি। আসলে তিনদিন পরেই বুধবার সুপার কাপের ধুন্ধুমার সেমি-ফাইনালে মোহন বাগানের প্রতিপক্ষ এই এফসি গোয়া। মনস্তাত্বিক যুদ্ধ বোধহয় রবিবারই শুরু হয়ে গেল। বাস্তবের মন্তব্য, ‘প্রতিপক্ষ যেমনই হোক, ছেলেরা লড়তে তৈরি।’
এপ্রিলের শেষে ভুবনেশ্বরে চড়া গরম। তার উপর ২৪ ঘণ্টা আগেই ম্যাচ খেলতে হয়েছে সাহালদের। তাই ছুটি দেওয়া হয় ফুটবলারদের। সাহালদের দ্রুত চাঙ্গা করাই উদ্দেশ্য। ক্লান্তি কাটাতে সাঁতারের পুল আর জিম সেশনেই ব্যস্ত রইলেন তাঁরা। সুপার কাপে কার্যত দ্বিতীয় সারির দল পাঠিয়েও কেরল ব্লাস্টার্সকে বশ মানিয়েছে মোহন বাগান। সাহাল, আশিক, দীপক টাংরিরা মাঝমাঠ কব্জায় রাখতে সফল। তবে বিশেষজ্ঞদের মন জিতে নিয়েছেন সালাউদ্দিন, সুহেল ভাটরা। তারকা খচিত স্কোয়াডে বেশি ম্যাচ টাইম পান না তাঁরা। কিন্তু সুযোগ পেতেই সদ্ব্যবহার করেছেন। রক্ষণে বঙ্গসন্তান দীপ্যেন্দুও অনেক পরিণত। বোরহা হেরেরাদের সামনে প্রাচীর হয়ে দাঁড়াতে তৈরি তিনি।
চলতি মরশুমে দারুণ আধিপত্য দেখিয়েছে মোহন বাগান। তবে গোয়াও অনেক ব্যালান্সড টিম। আইএসএলে দু’বারের মুখোমুখি সাক্ষাতের ফল ১-১। ফতোরদায় মানোলো মার্কুয়েজের দল বাজিমাত করলেও যুবভারতীতে শেষ হাসি হাসেন স্টুয়ার্টরাই। সুপার কাপে মোহন বাগান অবশ্য দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে খেলছে। আর মানোলো পূর্ণশক্তির দলই খেলাচ্ছেন। খেতাব জিতে এএফসি’র স্লট পেতে তাঁরা মরিয়া। প্রতিপক্ষ দুর্গে ফাটল ধরাতে অঙ্ক কষছেন এফসি গোয়ার কোচ।