Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ডুয়ার্সে বিজেপির পতনের দিন এসে গিয়েছে, বিস্ফোরক মন্তব্য বারলার

ডুয়ার্সে বিজেপির পতনের দিন এসে গিয়েছে, বিস্ফোরক মন্তব্য বারলার
  • ১৬ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: ডুয়ার্সে বিজেপির পতনের দিন এসে গিয়েছে। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। এমনই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জন বারলা। খাতায় কলমে এখনও গেরুয়া শিবিরেই রয়েছেন তিনি। কিন্তু নিজের দলের উপর রীতিমতো বীতশ্রদ্ধ প্রাক্তন এই বিজেপি সাংসদ। শনিবার টেলিফোনে ‘বর্তমান’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে বারলা বলেন, আদিবাসীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বিজেপি। ঠকানো হয়েছে চা বাগানের শ্রমিকদের। তাঁদের কেউ আর বিজেপিকে বিশ্বাস করে না। বিধানসভা ভোটটা আসতে দিন। ডুয়ার্সে বিজেপির পতন অনিবার্য। কেউ ঠেকাতে পারবে না। তাঁর প্রশ্ন, চা বলয়ে বিজেপি কেন ভোট পাবে? কোনও নেতৃত্ব আছে? কাকে দেখে মানুষ পদ্মফুলে ভোট দেবে?

Advertisement

বারলার দাবি, তাঁরা যখন বিজেপি করতেন, ডুয়ার্সের চা বাগান, আদিবাসী বলয়ের মানুষ তাঁদের দেখেই পদ্মফুলে ভোট দিয়েছে। তিনি বলেন, চা শ্রমিকদের মজুরি থেকে বোনাস, সমস্ত ইস্যুতেই সামনে থেকে লড়াই করেছি। সেই কারণে চা বলয়ের মানুষ আমাকে আড়াই লক্ষ ভোটে জিতিয়েছিলেন। সেই সময় ২০ শতাংশ বোনাস আদায় করে ছেড়েছি। আর গত পুজোয় মাত্র ১৬ শতাংশ বোনাস পেয়েছে চা শ্রমিকরা। কেন এমনটা হল? এর কারণ স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব চা বাগানের মালিকদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। হলফ করে বলতে পারি, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ডুয়ার্সে একটা আসনেও জিততে পারবে না বিজেপি। মাদারিহাট বিধানসভা উপ নির্বাচনের ফল শুধুমাত্র ট্রেলার ছিল। গোটা সিনেমাটা ২০২৬ সালে দেখতে পাবে বিজেপি।  
বিজেপিকে তুলোধনা করার পাশাপাশি রাজ্য সরকারের ভূয়সী প্রশংসা শোনা গিয়েছে বারলার গলায়। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের একটা প্রকল্পও ডুয়ার্সের মানুষের জন্য বাস্তবায়িত হয়নি। মোদি সরকারের এবারের বাজেটেও চা শ্রমিকদের জন্য কিছুই নেই। সেখানে রাজ্য সরকারের একাধিক শ্রমিক বন্ধু প্রকল্প ভালোভাবে চলছে ডুয়ার্সে। চা শ্রমিকদের বাড়ি তৈরি করে দিচ্ছে রাজ্য। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, জয় জোহার, কন্যাশ্রীর মতো প্রকল্পও চা বলয়ে অত্যন্ত জনপ্রিয়। বিগত লোকসভা নির্বাচনে দলের টিকিট না পাওয়ার পর থেকেই বিজেপির বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দেগে চলেছেন বারলা। কখনও দলের রাজ্য নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। কখনও আবার তুলোধনা করেছেন আলিপুরদুয়ার জেলা নেতৃত্বকে। কয়েক মাস আগে মাদারিহাট উপ নির্বাচনের সময় প্রচারে বের হওয়া তৃণমূল প্রার্থীর সঙ্গে রাস্তায় দাঁড়িয়ে হাসিমুখে গল্প করতেও দেখা গিয়েছে তাঁকে। এনিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক জল্পনা ছড়ায়। বারলার বোন মেরিনা কুজুর ইতিমধ্যেই রাজ্যের শাসক দলে যোগ দিয়েছেন। বারলাও তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন বলে কয়েকবার চাউর হয়। তিনি কি সত্যিই তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন? এনিয়ে অবশ্য বারলার ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, সময় হলেই উত্তর পেয়ে যাবেন। দেখতে থাকুন, আগামী দিনে কী হয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ