Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

কোচবিহারের মোহন

আসলে মোহন হল কোচবিহারের বাণেশ্বর শিবদিঘির স্থায়ী বাসিন্দা বিরাট বিরাট আকারের কচ্ছপ।

কোচবিহারের মোহন
  • ২৫ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

‘মোহন’। এই শব্দটি শুনলেই কোচবিহার জেলার মানুষ শ্রদ্ধায় অবনত হয়। কূর্ম অবতার রূপে যেমন তাদের কল্পনা করা হয় তেমনি কোচবিহারের রাজ আমলের সঙ্গেও এই মোহনদের যোগ রয়েছে। আসলে মোহন হল কোচবিহারের বাণেশ্বর শিবদিঘির স্থায়ী বাসিন্দা বিরাট বিরাট আকারের কচ্ছপ। বাণেশ্বর শিব মন্দিরে বছরভর যাঁরাই পুজো দিতে আসেন তাঁরা অতি অবশ্যই শিবদিঘির এই বিশালাকায় মোহনদের দর্শন না করে ফেরেন না। শিবদিঘির ঘাটে গেলে প্রায় সব সময়েই এদের দেখা পাওয়া যায়। দিঘির জলে ভাসমান মোহন অথবা দিঘির পাড়ে, ঘাটে রোদ পোহাতে দেখা যায় মোহনদের। কোচবিহারে মহারাজারাই এখানে মোহনদের এনেছিলেন বলেও অনেকে মনে করেন। শিবদিঘির এই মোহনরা কিন্তু কালের নিয়মে এখন আর শুধু শিবদিঘিতেই আবদ্ধ নেই। আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় তারা বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে বাণেশ্বর এলাকার প্রায় সমস্ত জলাশয়, খাল, বিল, পুকুরে এদের অবাধ যাতায়াত। অনেক সময়ই মোহনরা রাস্তা পারাপার হওয়ার সময় গাড়ি চাপা পড়ে মারা যায়। চোরাশিকারিদের হাত থেকেও এরা রেহাই পায় না। তাই স্থানীয় এলাকায় দীর্ঘদিন থেকেই গড়ে উঠেছে মোহন রক্ষা কমিটি। এই কমিটির মাধ্যমে মোহনদের সুরক্ষার কাজ চলে। পাশাপাশি পুলিসের পক্ষ থেকেও মোহনদের উপর নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু এত কিছুর পরেও শিবদিঘিতে গত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে বেশকিছু মোহনের মৃত্যু হয়েছে। এতে মোহন রক্ষা কমিটি ও প্রশাসন যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। শিবদিঘির মোহন রক্ষা করা না গেলে আগামী দিনে বাণেশ্বর শিবমন্দিরের অন্যতম আকর্ষণ এই দুর্লভ প্রাণীটি থেকে হারিয়ে যেতে পারে বলেও অনেকে মনে করেন। 

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ