নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জমি জটের কারণে পশ্চিমবঙ্গে প্রস্তাবিত একাধিক জাতীয় সড়কের কাজ করা যাচ্ছে না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখে এই অভিযোগ করেছিলেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণমন্ত্রী নীতিন গাদকারি। এবার তাঁর দপ্তরের বিরুদ্ধেই বাংলাকে বঞ্চনার অভিযোগ উঠল। ১২ নম্বর (পূর্বতন ১১৭ নং) জাতীয় সড়কের নামখানা থেকে বকখালি পর্যন্ত অংশ সম্প্রসারণের ছাড়পত্র দিতে তিনবার বৈঠক ডেকেও বাতিল করল কেন্দ্র। ফলে জমি বা অন্য কোনও জটিলতা না থাকা সত্ত্বেও ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে বাদ পড়ল ২৪০ কোটি টাকা প্রস্তাবিত খরচের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, জাতীয় সড়কটি বর্তমানে সাত মিটার চওড়া। গাড়ির চাপ বাড়ায় তা ১০ মিটার করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রকল্প রূপায়ণের নীতিগত সম্মতিও দিয়েছে কেন্দ্র। তার ভিত্তিতে প্রকল্পের ডিপিআর থেকে শুরু করে সমস্ত নথি সেপ্টেম্বর মাসেই পাঠিয়ে দেয়া হয়েছিল কেন্দ্রের কাছে। তারপর কেটে গেয়েছে পাঁচ মাস। কেন্দ্রের তরফে কোনও সাড়া মেলেনি। শেষমেশ মার্চ মাসে চূড়ান্ত ছাড়পত্র দেওয়ার জন্য বৈঠক ডাকে সড়ক পরিবহণ মন্ত্রকের সচিবের নেতৃত্বাধীন নির্দিষ্ট ফিনান্স কমিটি। সেই কমিটিতে নীতি আয়োগের প্রতিনিধিও আছেন। শুধুমাত্র মার্চ মাসেই ৫, ১০ এবং ২৮ তারিখে পশ্চিমবঙ্গকে এই প্রকল্প নিয়ে তিনবার এই কমিটি থেকে ডাকা হয়েছিল। কিন্তু প্রতিবারই শেষ মুহূর্তে বৈঠক পিছিয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে সদ্য শেষ হওয়া ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে এই কাজের ছাড়পত্র পেল না রাজ্য। রাজ্যের এক পদস্থ কর্তার কথায়, ‘ফের কবে বৈঠক ডাকা হবে, কেউ জানে না। ফলে কোন বছরে কাজ শুরু করা সম্ভব হবে, তা নিয়েও অন্ধকারে সবাই।’
এই অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে কেন এত গড়িমসি করছে কেন্দ্র? রাজ্যের প্রশাসনিক কর্তাদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে জমি না পাওয়ার অজুহাতে প্রকল্পের ছাড়পত্র আটকে রাখে কেন্দ্র। কিন্তু এক্ষেত্রে তেমন কোনও ব্যাপার ছিল না। ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের ক্ষেত্রে রাস্তার দু’পাশে পর্যাপ্ত ‘রাইট অব ওয়ে’ বা জমি আগে থেকেই রয়েছে। তাই নতুন করে জমি অধিগ্রহণের কোনও ব্যাপার নেই। সেই সঙ্গে পথ দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সড়ক সম্প্রসারণের ছাড়পত্র দেওয়া কেন্দ্রের অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে। তাহলে কি নিছক রাজনৈতিক কারণেই ছাড়পত্র দিল না কেন্দ্র? এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে নবান্নের অলিন্দে। আরও জানা গিয়েছে, সদ্যসমাপ্ত অর্থবর্ষে মোট সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার প্রকল্প চিহ্নিত করেছিল রাজ্য। এর মধ্যে শুধুমাত্র মেরামতি বা ছোটখাটো কাজ মিলিয়ে জাতীয় সড়ক খাতে মোট প্রয়োজনের এক তৃতীয়াংশ অর্থও বরাদ্দ হয়নি বাংলার জন্য।