সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি; রাজ্যের হাত থেকে ক্রমেই কেড়ে নেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন অধিকার। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের পরিবর্তে আরও বেশি করে কেন্দ্রীভূত করা হচ্ছে। বিরোধীরা দীর্ঘদিন ধরেই এমন অভিযোগে সরব। সেই অভিযোগকে ফের উস্কে দিয়েই সোমবার রাজ্যসভায় পাশ হয়ে গেল লেডিং আইন, ২০২৫। গত মার্চ মাসে লোকসভায় এই বিল পাশ হয়েছিল। এবার রাজ্যসভায় পাশ হওয়ায় জাহাজ নির্মাণ ও চলাচল তথা জলপথে পরিবহণ ও বাণিজ্যের নতুন আইন চালু হয়ে যাচ্ছে শীঘ্রই। বিরোধীদের অভিযোগ, এর মাধ্যমে জাহাজ চলাচল, নির্মাণ, উপকূল সংক্রান্ত যে কোনও সিদ্ধান্ত ও নীতি নির্ধারণের অধিকার চলে এল কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে। নয়া লেডিং আইনের ৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী, জলপথে বাণিজ্যের নীতি নির্ধারণে রাজ্য সরকার, জাহাজ শিল্পে যুক্ত শিল্পমহল, বাণিজ্য সংগঠন কারও কোনও অধিকার আর থাকছে না। সবই নির্ধারণ করবে কেন্দ্র। শুধু তা-ই নয়, জাহাজে পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে কর্পোরেট কিংবা আমদানি রপ্তানিকারী সংস্থাগুলিকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণহীন করে দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ, তারা পণ্য মাশুল নিজেদের ইচ্ছামতো আরোপ করতে পারবে।
রাজ্যসভায় বিল নিয়ে আলোচনার সময় প্রতিবাদে সরব হন আম আদমি পার্টি এমপি অশোক কুমার মিত্তাল। তিনি বলেন, শুধু জাহাজ নয়, নদী ও জলপথের সমগ্র কার্যকলাপই নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার এবার থেকে কেন্দ্রের। ৪ (১) নম্বর ধারায় সরাসরি প্রতারণাকেই বৈধ করা হচ্ছে। কারণ, ওই ধারা অনুযায়ী কোনও পণ্য পরিবহণের প্রমাণ হিসেবে ইস্যু করা রসিদকে যে কোনও সমস্যা ও জটিলতায় বৈধ প্রমাণ হিসেবে গ্রাহ্য করা হবে। এমনকী সেই পণ্য যদি সরবরাহ করা নাও হয়, তাহলে সেই রসিদ কীভাবে শিপমেন্টের বৈধতা প্রতিষ্ঠা করবে সে বিষয়ে বিলে কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এর ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র ও মাঝারি রপ্তানিকারী সংস্থাগুলি কার্যত আইনি বর্মের বাইরে থেকে যাবে। ধাক্কা খাবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যও। মিত্তালের অভিযোগ, চুক্তি হওয়া সত্ত্বেও যদি কোনও পণ্য সাপ্লাই করা না যায়, তাহলে সেই সমস্যা নিরসনে এই আইনে কোনও সমাধান নেই। অন্য ট্রাইবুনালে যেতে হবে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমহল গ্রহণ করবে না। আবার নয়া আইনের ২ নম্বর ধারায় বলা হচ্ছে, যদি পণ্য রপ্তানি চুক্তিতে কোনও সমস্যা আসে, সেই দায় বহন করে সমস্যা মেটাতে হবে প্রাপককে। বিরোধীদের সবথেকে বড় অভিযোগ হল, জলপথে কোনও মাশুল নীতি ধার্য করা হয়নি। অর্থাৎ, নিয়ন্ত্রণ থাকবে না মাশুলে। কেন্দ্রীয় জাহাজ ও বন্দরমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনেওয়াল এই অভিযোগকে খণ্ডন করেছেন। তাঁর দাবি, ১৮৮৬ সালের প্রাচীন আইন বাতিল করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ২০২৫ সালের প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে সাযুজ্য রেখে আইন নির্ধারণ করা হয়েছে। বিরোধীরা যে অভিযোগ করছে, সেটা ভিত্তিহীন। কারণ, এবার প্রতারণা, রপ্তানি-আমদানির জালিয়াতি, জাল রসিদ প্রদান ইত্যাদি তাবৎ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থার নিদান রয়েছে আইনে।