


নয়াদিল্লি: রক্তে ভিজেছে রাস্তা। চারদিকে ছিন্নভিন্ন দেহের টুকরো। গাড়ির বনেটে আটকে দেহ। দিল্লি বিস্ফোরণের পর আঁতকে ওঠার মতো এমনই সব ছবি সামনে এসেছে। এবার নিহতদের ময়নাতদন্তের রিপোর্টেও একইরকম বীভৎসতা স্পষ্ট। সরকারি হিসেবে, মৃতের সংখ্যা ৯। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, মৃতদের কারও ফুসফুস, কারও কানের পর্দা, কারও শরীরের সম্পূর্ণ উর্ধ্বাংশ ছিন্নভিন্ন হয়েছে বিস্ফোরণে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, মৃতদের খুব কাছেই বিস্ফোরণ হয়। কয়েকটি দেহে ‘ক্রস-ইনজুরি’ দেখা গিয়েছে। অর্থাৎ মৃত্যুর পরও আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে দেহগুলি। বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ, বিস্ফোরণের অভিঘাতে দেহগুলি উড়ে গিয়ে পাশের দেওয়ালে বা কিছুটা দূরে রাস্তায় গিয়ে পড়ে। তাতে মৃতদেহের একাধিক হাড় ভেঙে যায়। কয়েকজনের মাথায় আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট, যা কেবল বিস্ফোরণের জেরে তৈরি হতে পারে না। তবে কোনও মৃতদেহ বা তাদের পোশাকে বিস্ফোরকের টুকরো পাওয়া যায়নি। এর থেকেই অনুমান, দিল্লি বিস্ফোরণে বিশেষ ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছে। ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির এক কর্তাও সেই ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁর দাবি, একটি বিস্ফোরক অবশ্যই অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট। তবে এছাড়াও কিছু রাসায়নিক ছিল। আসলে শুধুমাত্র অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে না। এর সঙ্গে বিশেষ কিছু রাসায়নিক মেশাতে হয় বিস্ফোরণের জন্য। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞর মতে, দিল্লি বিস্ফোরণে এই দ্বিতীয় পদার্থ হিসেবে পেট্রলিয়াম জাতীয় জ্বালানি তেল ব্যবহার করা হতে পারে।