Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

মাওবাদীদের প্রাক্তন সুপ্রিম কমান্ডার গণপতিকে গ্রেপ্তারে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে প্রশাসন

আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে মাওবাদী সমস্যা নির্মূল করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক অভিযান চলছে। বহু মাওবাদী নেতা-কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। আত্মসমর্পণও করেছেন অনেকে।

মাওবাদীদের প্রাক্তন সুপ্রিম কমান্ডার গণপতিকে গ্রেপ্তারে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে প্রশাসন
  • ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

হায়দরাবাদ: আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে মাওবাদী সমস্যা নির্মূল করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক অভিযান চলছে। বহু মাওবাদী নেতা-কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। আত্মসমর্পণও করেছেন অনেকে। গত শনিবার অসমে মাওবাদীমুক্ত ভারত গড়ার কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তারপর আরও চাপ বাড়ায় নিরাপত্তা বাহিনী। সেই চাপের মুখে গত মঙ্গলবার আত্মসমর্পণ করেন মাওবাদীদের বর্তমান শীর্ষ নেতা থিপ্পিরি তিরুপতি ওরফে দেবজি। এবার তেলেঙ্গানা পুলিশের নজরে মাওবাদীদের প্রাক্তন সুপ্রিম কমান্ডার মুপ্পালা লক্ষ্মণ রাও ওরফে গণপতি। সূত্রের খবর, ডায়াবেটিস, বাত সহ বিভিন্ন রোগে জর্জরিত এই মাওবাদী নেতা খারাপ স্বাস্থ্যের কারণে আত্মসমর্পণের বার্তা দিয়েছিলেন। যদিও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। তেলেঙ্গানা পুলিশের ডিজি বি শিবধর রেড্ডি জানিয়েছেন, গণপতির গোপন ডেরার খোঁজ চলছে।

Advertisement

গত বছর নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হন সিপিআই মাওবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক নাম্বালা কেশব রাও ওরফে বাসবরাজ। তারপরই দেবুজিকে ওই পদে বসানো হয়। ৬২ বছর বয়সি দেবুজির মাথার দাম ছিল ১ কোটি টাকা। মাওবাদীদের এই পলিটব্যুরো সদস্যের আত্মসমর্পণের পর এবার গণপতিকে গ্রেপ্তার করতে মরিয়া তেলেঙ্গানা পুলিশ। এই শীর্ষ নেতাকে গ্রেপ্তার করতে পারলেই মাওবাদীদের শক্তি একধাক্কায় অনেকটাই কমে যাবে বলে মত পুলিশকর্তাদের।
বর্তমানে গণপতির বয়স প্রায় ৭৫-এর কোঠায়। গত শতাব্দীর আটের দশকে সিপিআই এমএল (পিপলস ওয়ার) গ্রুপ-এর প্রতিষ্ঠাতা কোড্ডাপল্লি সিতারামাইয়া নিজের হাতে গড়েছিলেন এই গেরিলা নেতাকে। ধনী কৃষক পরিবারের ছেলে মুপ্পালা লক্ষ্মণ রাওয়ের বাড়ি ছিল অবিভক্ত করিমনগর জেলায়। বিজ্ঞানে স্নাতক। এক সময় তেলেঙ্গানার করিমনগর জেলায় শিক্ষকতাও করেছেন। পরে তিনি জড়িয়ে পড়েন অন্ধ্রপ্রদেশের কৃষক আন্দোলনে। ১৯৭০ সালে নাম লেখান মাওবাদীদের দলে। ২০০৪ থেকে ২০১৮ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সিপিআই (মাওবাদী)-র সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন তাত্ত্বিক নেতা হিসাবে পরিচিত গণপতি। ছত্তিশগড়, ওড়িশা, মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশ ও ঝাড়খণ্ডে সংগঠন বিস্তারে এবং শক্তিবৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা নিয়েছিলেন। একাধিক রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের মোস্ট ওয়ান্টেড লিস্টের শীর্ষে থাকা গণপতির মাথার দাম সাড়ে তিন কোটি টাকারও বেশি।

সম্পর্কিত সংবাদ