


নয়াদিল্লি: মেডিকেল মডিউলের ১০ জনের ‘কোর গ্রুপ’। দিল্লি বিস্ফোরণ কাণ্ডে জড়িত এই ১০ কুশীলবের ভূমিকা এবার গোয়েন্দাদের স্ক্যানারে। গোটা মডিউলের নেপথ্যে রয়েছে পাকিস্তানের কুখ্যাত জঙ্গি সংগঠন জয়েশ-ই-মহম্মদ। ষড়যন্ত্রের মাথা হিসেবে প্রথমেই সামনে আসছে দু’টি নাম। প্রথমজন পাকিস্তানি জঙ্গি উমর বিন খাত্তাব ওরফে হাঞ্জুলা। দ্বিতীয় ব্যক্তি জম্মু ও কাশ্মীরের সোপিয়ানের এক ইমাম। নাম মৌলবি ইরফান আহমেদ ওয়াঘি।
মৌলবি ওয়াঘিকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, মগজধোলাই হওয়া জেহাদি চিকিৎকদের সঙ্গে জয়েশের লিঙ্কম্যান হিসেবে কাজ করেছিল সে। কাশ্মীরে জঙ্গিদের সঙ্গে বৈঠকের আয়োজনও করে ওয়াঘি। সেখানেই জেহাদি ডাক্তারদের হাতে তুলে দেওয়া হয় এ কে ৪৭ রাইফেল। তদন্তের সূত্রে উঠে আসছে, জয়েশের সঙ্গে মেডিকেল মডিউলের দ্বিতীয় লিঙ্কম্যান ছিল ধৃত মহিলা চিকিৎসক শাহিন শাহিদ। লখনউয়ের এই বাসিন্দা আদতে মাসুদ আজহারের জঙ্গি সংগঠনের মহিলা ব্রিগেডের নেত্রী হিসেবে কাজ করছিল। সে-ই মেডিকেল মডিউলের প্রধান অর্থ সরবরাহকারী। লালকেল্লার কাছে আত্মঘাতী বিস্ফোরণের জন্য ২০ লক্ষ টাকা জোগান দিয়েছিল এই মহিলা চিকিৎসক। সম্ভবত বিস্ফোরণের অন্যান্য ছকের জন্যও সে অর্থ সরবরাহ করে। শাহিনের নামে নথিভুক্ত একটি গাড়ি থেকেও উদ্ধার হয়েছে রাইফেল।
মেডিকেল মডিউলের অন্যতম প্রধান মুখ ডাঃ মুজাম্মিল শাকিল। কাশ্মীরের মৌলবি ওয়াঘি প্রথম মগজধোলাই করেছিল শাকিলেরই। ২০২৩ সালে শ্রীনগরে সরকারি মেডিকেল কলেজে দু’জনের পরিচয়। পরে শাকিলের মাধ্যমে ওয়াঘির সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হয় আরও দুই চিকিৎসকের। তারা হল ডাঃ আদিল আহমেদ রাঠের ও দিল্লি হামলায় আত্মঘাতী জঙ্গির ভূমিকা পালন করা ডাঃ উমর নবি। অন্যদিকে ডাঃ শাহিন শাহিদ নিজের ভাই, লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত চিকিৎসক পারভেজ আনজারিকেও এই মডিউলের সদস্য বানায়। উত্তরপ্রদেশেরই অন্য একটি কলেজের ডাক্তার ফারুক আহমেদ দারকেও চক্রান্তে অন্তর্ভুক্ত করে মৌলবি ওয়াঘি। ডাক্তার আনজারি ও দারের ভূমিকা কী ছিল? তদন্তকারীরা সেবিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে প্রাথমিকভাবে তাঁরা মনে করছেন, বিস্ফোরক তৈরি জন্য প্রয়োজনীয় বিশাল পরিমাণ রাসায়নিক কেনার কাজে সাহায্য করেছিল এই দুই চিকিৎসক।
এই মডিউলের নবম ও দশম সদস্য পেশায় চিকিৎসক ছিল না। তাদের মধ্যে জম্মু ও কাশ্মীরের সাম্বুরার বাসিন্দা আমির রশিদ আলি লালকেল্লার রাস্তার ঘাতক আই-২০ গাড়িটি কেনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। মডিউলের দশম সদস্যের নাম জসির বিলাল ওয়ানি। এনআইএ ইতিমধ্যেই তাকে গ্রেফতার করেছে। কাশ্মীরের অনন্তনাগের এই বাসিন্দা আত্মঘাতী চিকিৎসক উমর নবিকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছিল। হামলা চালানোর লক্ষ্যে সে ড্রোন ও রকেট তৈরির চেষ্টায় ছিল বলেও দাবি তদন্তকারীদের।