Bartaman Logo
২ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পুজোয় বর্ধমান থেকে হাবড়ায় এসে দুর্ঘটনায় মৃত্যু কিশোরীর

মাত্র ১৭ দিনের আলাপ। বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে বর্ধমান থেকে হাবড়ায় আসে কিশোরী। ছিল বন্ধুর বাড়িতেই। পরিচয়ের ১৮ দিনের মাথায় দশমীর ভোরে অশোকনগরের যশোর রোডের ধারে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় কিশোরীর দেহ উদ্ধার হয়। দেহ ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে অশোকনগর থানার পুলিশ।

পুজোয় বর্ধমান থেকে হাবড়ায়  এসে দুর্ঘটনায় মৃত্যু কিশোরীর
  • ৪ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: মাত্র ১৭ দিনের আলাপ। বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে বর্ধমান থেকে হাবড়ায় আসে কিশোরী। ছিল বন্ধুর বাড়িতেই। পরিচয়ের ১৮ দিনের মাথায় দশমীর ভোরে অশোকনগরের যশোর রোডের ধারে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় কিশোরীর দেহ উদ্ধার হয়। দেহ ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে অশোকনগর থানার পুলিশ। 

Advertisement

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে কিশোরীর। তবে নিছক দুর্ঘটনা, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ আছে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। বন্ধুকে আটক করে জেরা করছে পুলিশ। মৃতার নাম স্টিলা কয়াল (১৪)। বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের কালনায়। মার্শাল আর্টে স্টিলা সোনা জিতেছে জাতীয়স্তরের প্রতিযোগিতায়। এখন কালনার একটি স্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। জানা গিয়েছে, ফেসবুকের মাধ্যমে ১৭ দিন আগে স্টিলার সঙ্গে আলাপ হয়েছিল দীপজ্যোতি চক্রবর্তীর (২২)। তিনি ভারতীয় সেনায় অগ্নিবীর হিসেবে কর্মরত। পোস্টিং অসমে। বাড়ি হাবড়ার হিজলপুকুরে। 
পুজোর ছুটিতে হাবড়ার হিজলপুকুরের আসেন দীপজ্যোতি। বর্ধমানের কালনা থেকে সপ্তমীর দিন সেখানে চলে আসে স্টিলা। অষ্টমীর রাতে বন্ধুর বাইকে চেপে ঠাকুর দেখেছিল সে। নবমীর রাতেও ঠাকুর দেখতে বের হয় তারা। রাতভর ঠাকুর দেখে বাড়ি ফেরার পথে মৃত্যু হয় কিশোরীর। দশমীর ভোরে অশোকনগরের ৫ নম্বর মোড় এলাকায় যশোর রোডের ধারে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় কিশোরীর দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পাঁচ নম্বর মোড়ের যশোর রোডে একটি গর্তে বাইক পড়ে রাস্তায় ছিটকে পড়ে স্টিলা। তখনই পিছনের দিক থেকে আসা বেপরোয়া গতির ট্রাকের নীচে পড়ে মৃত্যু হয় কিশোরীর। দীপজ্যোতি বাড়ি গিয়ে মাকে নিয়ে আসেন ঘটনাস্থলে। দেহ টেনে রাস্তার ধারে নিয়ে আসেন তিনি। তারপর ভয় পেয়ে হাসনাবাদে জেঠুর বাড়িতে আশ্রয় নেন। বিষয়টি জানার পরই দীপজ্যোতিকে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। অশোকনগর পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এটা দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনও বিষয় তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে অভিযুক্তের জেঠু মুক্তি চক্রবর্তী বলেন, ভাইপো আমার বাড়িতে গিয়ে গোটা ঘটনার কথা জানিয়েছে। ভয় পেয়ে আমার বাড়ি চলে এসেছিল। ওদের সম্পর্ক মাত্র ১৭ দিনের। বারাসত পুলিশ জেলার অতিরিক্ত সুপার অতীশ বিশ্বাস বলেন, দুর্ঘটনায় কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। মৃতার পরিবার অভিযোগ করেনি। বন্ধুকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ