Bartaman Logo
১৭ জুলাই, ২০২৬

লক্ষ্য ভোট, বাজেটে প্রবীণ রেলযাত্রীদের ছাড় ফেরার জল্পনা

ভোট বড়ো বালাই। আর তাও যদি কয়েক মাসের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ, কেরল, তামিলনাড়ু, অসম এবং পুদুচেরির মতো পাঁচটি রাজ্যে হয়।

লক্ষ্য ভোট, বাজেটে প্রবীণ রেলযাত্রীদের  ছাড় ফেরার জল্পনা
  • ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: ভোট বড়ো বালাই। আর তাও যদি কয়েক মাসের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ, কেরল, তামিলনাড়ু, অসম এবং পুদুচেরির মতো পাঁচটি রাজ্যে হয়। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে সবথেকে বেশি ‘কানেক্ট’ কী করে? রেল এবং রেলের কনসেশন। ঠিক তাই দীর্ঘ পাঁচ বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে ফিরতে চলেছে ট্রেনের টিকিটে প্রবীণদের ছাড়! তীব্র জল্পনা সেটাই। আসন্ন বাজেটে সেই ঘোষণা হতে পারে বলেই সংসদের অলিন্দে জোর চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে। তার প্রধান কারণ, ইতিমধ্যেই এব্যাপারে অর্থমন্ত্রকের কাছে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে রেলমন্ত্রকের পক্ষ থেকে। তাতে অবশ্য আরও জানানো হয়েছে, ট্রেনের টিকিটে ফের প্রবীণ রেলযাত্রীদের কনসেশন দেওয়ার জন্য অন্তত দেড় থেকে দু’হাজার কোটি টাকা বছরে বাড়তি খরচ হবে।

Advertisement

কাল, রবিবার ২০২৬-২৭ আর্থিক বছরের সাধারণ বাজেট পেশ করবেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। রেল বোর্ডের শীর্ষ সূত্রের খবর, এ নিয়ে আলোচনাও চূড়ান্ত পর্যায়ে। অর্থমন্ত্রকের অনুমোদন মিললে আগামী অর্থবর্ষ থেকেই প্রবীণ রেলযাত্রীদের টিকিটে ছাড় চালু হয়ে যাবে। আর নির্বাচনি ফায়দা যদি লোটার থাকে, তাহলে বাজেটের থেকে বেশি ভালো মঞ্চ আর কিছু হতে পারে না। এক্ষেত্রে রেল সূত্রে দু’টো সম্ভাবনার তত্ত্ব উঠে আসছে। এক, বাজেটেই এর ঘোষণা করে দেওয়া। অথবা দুই, অর্থমন্ত্রকের অনুমোদনের পর এসংক্রান্ত বাজেট বরাদ্দ করিয়ে আলাদাভাবে জাঁকজমকপূর্ণ বিজ্ঞপ্তি জারি। প্রত্যাশিত কারণেই এবিষয়ে রেল বোর্ড সরকারিভাবে কোনও মন্তব্য করেনি। অর্থমন্ত্রকের কাছে রেলমন্ত্রক যে এহেন একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে, সরকারি সূত্র মারফত প্রাপ্ত সেই খবর অবশ্য বোর্ডের আধিকারিকরা শুক্রবার রাত পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকারও করেননি!

করোনা মহামারীর প্রাদুর্ভাব হওয়ার আগে পর্যন্ত ৬০ বছর ও তার বেশি বয়সি পুরুষ এবং ৫৮ বছর ও তার বেশি বয়সের মহিলা রেলযাত্রীরা দূরপাল্লার মেল, এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিটে যথাক্রমে ৪০ শতাংশ এবং ৫০ শতাংশ কনসেশন পেতেন। কিন্তু করোনায় প্রবীণ নাগরিকদের ‘অযথা’ ট্রেন সফর বন্ধ করার যুক্তি দেখিয়ে ২০২০ সালের ২০ মার্চ থেকে সেই ছাড় তুলে দেওয়া হয়। অথচ রেল সূত্রেই জানা যাচ্ছে, ২০২০ সালের ২০ মার্চ থেকে ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে ৩১ কোটি ৩৫ লক্ষ প্রবীণ নাগরিক ট্রেনে চেপেছেন। অর্থাৎ, উল্লিখিত সময়সীমায় প্রতি বছর গড়ে ছ’কোটিরও বেশি সিনিয়র সিটিজেন ট্রেনে সফর করেছেন। তারপরও কনসেশন কিন্তু ফেরানো হয়নি। সারা দেশে করোনা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হওয়ার পরও না। বরং এই পাঁচ বছরে একাধিকবার রেলমন্ত্রক যুক্তি দিয়েছে, রেলযাত্রীদের টিকিটে হাজার হাজার কোটি টাকা ভরতুকি দেওয়া হচ্ছে। তাই নতুন করে আর কনসেশনের প্রয়োজন নেই। সেই প্রয়োজন আবার ফিরছে। যতটা প্রবীণ নাগরিকদের। ততটা ভোট রাজনীতিরও।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ