Bartaman Logo
১৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

টার্গেট ২৫০, বেশ কিছু কেন্দ্রে রণকৌশলে চমক দেবেন মমতা

১৮৪, ২১১, ২১৫। শেষ তিন বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের জয়ের আসন। আর এবার? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো বটেই, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও একাধিকবার জোর গলায় দাবি করেছেন, ‘ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের আসন সংখ্যা ও ভোটের শতাংশ দুটোই বাড়বে।’

টার্গেট ২৫০, বেশ কিছু কেন্দ্রে রণকৌশলে চমক দেবেন মমতা
  • ১৬ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ১৮৪, ২১১, ২১৫। শেষ তিন বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের জয়ের আসন। আর এবার? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো বটেই, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও একাধিকবার জোর গলায় দাবি করেছেন, ‘ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের আসন সংখ্যা ও ভোটের শতাংশ দুটোই বাড়বে।’ সেক্ষেত্রে শাসক দলের লক্ষ্য? তৃণমূলের অন্দরমহলের খবর, ২৫০ আসন জয়ের টার্গেট নিয়ে ভোটযুদ্ধে নামছে জোড়াফুল ব্রিগেড। নবীন, প্রবীণ থেকে শুরু করে সমাজের সব অংশের প্রতিনিধির সংমিশ্রণে প্রার্থী তালিকা তৈরি করেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আছে একাধিক চমক। আজ, সোমবার কলকাতায় মমতার মিছিল রয়েছে। আর মঙ্গল-বুধবারই প্রার্থী তালিকা ঘোষণার সম্ভাবনা।

Advertisement

রবিবার পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এবার ভোট দু’দফায়। এর আগে যেখানে আট দফায় বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে, এবারে কমে কেন দু’দফা? এখানেই ‘অন্য ভোটের আশঙ্কা’ করছে তৃণমূল। রাজ্যের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের বক্তব্য, ‘চারটি রাজ্যে বিধানসভা ভোট হচ্ছে একটি দফায়। সেখানে শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গে দু’দফায় ভোট কেন? তামিলনাড়ুতে ২৩৪টি আসন। সেখানেও একদফা? নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে বিজেপি যদি কোনো চক্রান্ত করতে যায়, সেটা সফল হবে না। যত দফাতেই ভোট হোক, দফারফা হয়ে যাবে বিজেপি।’ পালটা রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য কমিশনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘এক দফায় হলে মানুষ আরও একটু বেশি খুশি হতেন। দু’দফায় তৃণমূলের পরাজয় সুনিশ্চিত।’ অন্যদিকে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার একযোগে কিন্তু প্রশ্ন তুলেছেন এসআইআর নিয়ে। তাঁদের একমুখী বার্তা, ‘নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করেনি ৬০ লক্ষ বিবেচনাধীন থাকা ভোটারদের কী হবে। সেটা পরিষ্কার হওয়া দরকার।’
তবে ভোটের দিনক্ষণ সামনে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন একটাই—প্রার্থী তালিকা কবে। কারণ, ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোট হলে সময় খুব বেশি নেই। এর মধ্যে এসআইআর চলছে। রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের সেদিকেও নজর দিতে হচ্ছে। তাই যত দ্রুত তালিকা প্রকাশ হবে, মানুষের মনে তত বেশিদিন সেই প্রার্থীর নাম থাকবে। শাসক দল হিসাবে অবশ্য তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা নিয়ে মানুষের আগ্রহ খানিক বেশি। এখনও পর্যন্ত তৃণমূল সূত্রে খবর, প্রার্থী তালিকায় বড় চমক দিতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যেমন সদ্য রাজ্যসভার ভোটে দিয়েছেন তিনি। মেনকা গুরুস্বামী, রাজীব কুমার, কোয়েল মল্লিকের নাম আগেভাগে কেউ আন্দাজ করতে পারেনি। একইভাবে বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকাতেও মেগা চমক অপেক্ষা করছে। সমাজের বিশিষ্ট অংশের তালিকায় থাকা বেশ কিছু নাম আসতে চলেছে তৃণমূলের ঘোষণায়। দলবদলুদের বাদ দিয়ে এই মুহূর্তে তৃণমূলের অফিশিয়াল বিধায়ক সংখ্যা ২১৯। তাঁদের সকলের টিকিট পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। পারফরম্যান্সের বিচারে টিকিট বণ্টন হবে বলেই দলের শীর্ষ সূত্রে খবর। সেক্ষেত্রে বয়স, অসুস্থতা, জনতার অভিযোগ, জনসংযোগ না থাকা—এই নিরিখে বাদ যেতে চলেছেন বিধায়করা। গতবার বিজেপি জিতেছিল ৭৭টি আসন। ওই আসনের সিংহভাগেই এবার তৃণমূলের নতুন মুখ থাকবে। জানা যাচ্ছে, আসন্ন ভোটে সব মিলিয়ে নতুনের সংখ্যাটা ১০০। আবার বীরভূম জেলায় বিজেপির দখলে থাকা দুবরাজপুরের ক্ষেত্রে প্রাক্তন বিধায়কের কাছে ফোন গিয়েছে তৃণমূলের শীর্ষ মহল থেকে। তাঁকে তৈরি থাকতে বলা হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ