Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

সুপ্রিম নির্দেশে হাইকোর্টের তত্ত্বাবধানে বাকি এসআইআর, কমিশনকে লাগাম, মমতায় মান্যতা

গণতন্ত্র বিপন্ন। সংবিধান সংকটে। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো বুলডোজ করা হচ্ছে। ইচ্ছে মতো নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। এই অভিযোগ সুপ্রিম কোর্টে দাঁড়িয়ে করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সুপ্রিম নির্দেশে হাইকোর্টের তত্ত্বাবধানে বাকি এসআইআর, কমিশনকে লাগাম, মমতায় মান্যতা
  • ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: গণতন্ত্র বিপন্ন। সংবিধান সংকটে। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো বুলডোজ করা হচ্ছে। ইচ্ছে মতো নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। এই অভিযোগ সুপ্রিম কোর্টে দাঁড়িয়ে করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আরজি জানিয়েছিলেন, দয়া করে গণতান্ত্রিক সংকট থেকে আমাদের উদ্ধার করুন। অবশেষে মমতার সেই আবেদনেই মান্যতা দিল সুপ্রিম কোর্ট। তৃণমূলের ভাষায় ‘তুঘলকি’ কমিশনে লাগাম টেনে দেশের শীর্ষ আদালত বুঝিয়ে দিল, মানুষের হয়রানি এবং সাংবিধানিক অধিকার হরণ তারা বরদাস্ত করবে না। তাই বাংলার এসআইআর প্রক্রিয়ায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করে সুপ্রিম বার্তা, ভোটার তালিকা শুদ্ধকরণের বাকি প্রক্রিয়া হবে আদালতের তত্ত্বাবধানেই। কমিশন নিযুক্ত কে মাইক্রো অবজার্ভার নন। পশ্চিমবঙ্গে স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন প্রক্রিয়ায় ‘সন্দেহজনক’ ভোটার নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বিচারবিভাগীয় আধিকারিক। লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির জটিলতা সমাধান করবেন তাঁরাই। শুক্রবার এসআইআর মামলার শুনানিতে নজিরবিহীন এই নির্দেশ দিয়ে দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বললেন, ‘যেভাবে কমিশন এবং রাজ্য সরকার পরস্পরের বিশ্বাসে ঘাটতি দেখা যাচ্ছে, এই পরিস্থিতিতে ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। তাই লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির সমস্যা সমাধানে জেলা আদালতের বর্তমান এবং অবসরপ্রাপ্ত বিচারকরা নথি খতিয়ে দেখে ভোটার তালিকায় নাম রাখা বা বাদ দেওয়া সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।’

Advertisement

শুনানির পর্যবেক্ষণে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘সময়েই পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন করতে হবে। তাই দ্রুত শেষ করতে হবে এসআইআর।’ শুনানি শেষে আদালতের নির্দেশ, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারিই প্রকাশ হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। তারপরও যদি নাম তোলা বা বাদ নিয়ে কারও কোনো অভিযোগ থাকে, তিনি জানাতে পারবেন। প্রয়োজনে অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করবে কমিশন। এখানেই মমতার জয় দেখছে তথ্যাভিজ্ঞ মহল। ৪ ফেব্রুয়ারি শীর্ষ আদালতে নিজেই সওয়ালে ঝড় তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী বা তৃণমূলনেত্রী হিসাবে নয়, বাংলার এক সাধারণ নাগরিক হয়ে সেই সওয়ালে কমিশনের কাজে অসংগতির একগুচ্ছ অভিযোগ এনেছিলেন তিনি। আরজি জানিয়েছিলেন, বাংলার এসআইআর প্রক্রিয়ায় আদালতের নজরদারি থাকুক। করজোড়ে প্রধান বিচারপতিকে বলেছিলেন, ‘সেভ ডেমোক্রেসি। প্রোটেক্ট পিপলস রাইট।’
শুক্রবার শুনানিতে সেই জনগণের অধিকার রক্ষাতেই জোর দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের নির্দেশের পরও পশ্চিমবঙ্গ সরকার মাইক্রো অবজার্ভার হিসাবে যোগ্য অফিসার দেয়নি বলে এদিন সুর চড়িয়েছিলেন নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী দামা শেষাদ্রি নাইডু। প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘তাহলে হয় বাইরে থেকে কমিশন আইএএস অফিসার নিয়ে এসে কাজ করাবে, না হলে রাজ্যের বিচারবিভাগীয় আধিকারিক নিয়োগ হবে।’ বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী তখন বলেন, ‘কমিশন অন্য রাজ্য থেকে কর্মী নিয়ে এলে তাঁদের বাংলা বানান বুঝতে সমস্যা হতে পারে।’ সেই মন্তব্যকে সমর্থন করেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। বেঞ্চের অন্য আর এক বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়াকে পাশে রেখে তাঁর নির্দেশ, ‘রাজ্যের জুডিশিয়াল অফিসাররাই সমস্যা মেটাবেন। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ করছি, তিনি যেন জেলা আদালতের বর্তমান অথবা অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদের এই কাজের দায়িত্ব দেন। বর্তমান ম্যাজিস্ট্রেটরা এসআইআরের এই কাজে নিযুক্ত হলে জেলা আদালতে নানা মামলার শুনানিতে সামান্য সমস্যা হবে ঠিকই। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আর কিছু করার নেই।’ 
আদালতে এদিন রাজ্য সরকারের হয়ে আইনজীবী কপিল সিবাল বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় বাড়িয়ে দেওয়ার পরও নির্দেশ  অগ্রাহ্য করছে কমিশন। ১৫ ফেব্রুয়ারি ডকুমেন্ট আপলোড করা বন্ধ করে দিয়েছে।’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী শ্যাম দিওয়ানের সওয়াল, ‘কমিশন আবার স্পেশাল রোল অবজার্ভারের নামে নতুন ধরনের অফিসার নিয়োগ করেছে। তাঁরা ইআরওদের সিদ্ধান্ত খারিজ করে দিচ্ছেন। অথচ শীর্ষ আদালত ৯ ফেব্রুয়ারি নির্দেশ দিয়েছিল, ইআরওরাই ফাইনাল অথরিটি।’ উভয় পক্ষের সওয়াল জবাব শুনে আদতে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি। বলেন, ‘আশা করেছিলাম জটিলতা কাটবে। হয়নি।’ এসআইআর পর্বে রাজ্যে যে সংঘর্ষের অভিযোগ উঠেছে, তা সামাল দিতে রাজ্য পুলিশের ডিজিকে নির্দেশের পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টে রিপোর্টও জমা করতে বলা হয়েছে। ১০ মার্চ ফের শুনানি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ