


বিশেষ সংবাদদাতা, ইটানগর: দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগে বিদ্ধ অরুণাচল প্রদেশের বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু। অভিযোগ, ২০১৫ থেকে ২০২৫-এই ১১ বছরে পেমা এবং তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্য অনৈতিকভাবে সরকারি কাজের বরাত হস্তগত করেছেন। দুর্নীতির মোট পরিমাণ ১ হাজার ২৭০ কোটি টাকা। সোমবার সিবিআইকে এই বিপুল দুর্নীতির প্রাথমিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। বিচারপতি বিক্রম নাথ ও সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ জানিয়েছে, ১৬ সপ্তাহের মধ্যে সিবিআইকে স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দিতে হবে। তার ভিত্তিতে ঠিক হবে আলাদা করে নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজন হবে কি না।
পেমা খান্ডু এবং তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে সরকারি বরাত বরাদ্দের বিষয়ে তদন্তের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা করেছিল ‘সেভ মন রিজিয়ন ফেডারেশন’ এবং ‘ভলান্টারি অরুণাচল সেনা’ নামে দু’টি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। দুই সংগঠনই স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (সিট) গঠনের আরজি জানায়। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মামলায় রায়দান স্থগিত রাখে সুপ্রিম কোর্ট। এদিন সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে বলেছে, অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে খতিয়ে দেখাই প্রাথমিক তদন্তের উদ্দেশ্য। মুখ্যমন্ত্রী খান্ডু, তাঁর ভাই সেরিং তাশি ও মা রিনচিন ড্রেমা এবং তাঁদের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি বা সংস্থাগুলির বরাতগুলিকে ‘বিশেষভাবে খতিয়ে দেখার’ নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। পাশাপাশি রাজ্যের প্রতি একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, সিবিআইকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে রাজ্যকে। এই সহযোগিতার জন্য একজন নোডাল অফিসার নিয়োগ করতে অরুণাচলের মুখ্যসচিবকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
এদিন দু’টি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর নামে একাধিক সংস্থা রয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ের হলফনামা তুলে ধরে প্রশান্ত বলেন, মুখ্যমন্ত্রী পেমার মালিকানাধীন সংস্থা ‘ব্র্যান্ড ঈগলস’ ১১ বছরে ৩১টি বরাত হস্তগত করেছে। তাঁরই মালিকাধীন অপর একটি সংস্থার নাম ফ্রন্টিয়ার অ্যাসোসিয়েটস। সেই হলফনামায় জানানো হয় ৯১টি বরাতের মূল্য ছিল ১৪৫ কোটি। পরে নতুন করে দাখিল আরও একটি হলফনামায় বলা হয়েছে, পেমা এবং তাঁর পরিবারের মোট কাজের বরাত ১২১টি। যার অর্থমূল্য ২৪৫ কোটি টাকা। এছাড়াও
টেন্ডার ছাড়াই ৩২২টি কাজের বরাত বরাদ্দ করা হয়েছে। যার অর্থমূল্য ২৫ কোটি টাকা।