


নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ভেনামি চিংড়ি চাষ করে লাভ হচ্ছে না। তাই এই মাছের চাষ কমিয়ে এখন নোনা ট্যাংরা উৎপাদনের দিকে ঝুঁকেছে সুন্দরবনের মৎস্যজীবীরা। বাজারে নোনা ট্যাংরার ভালো দাম মেলে। ফলে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন মৎসজীবীরা। এখন ক্যানিং, বাসন্তীজুড়ে পুকুর ও ভেড়িগুলিতে ব্যাপক হারে চাষ হচ্ছে।
মৎসজীবীদের বক্তব্য, একসময় ভেনামি চিংড়ির চাষ লাভজনক ছিল। ফলে সুন্দরবনের বিভিন্ন প্রান্তে চাষ করত সবাই। কিন্তু সম্প্রতি চিংড়ির মধ্যে রোগ দেখা দেওয়ায় উৎপাদন ব্যাপক হারে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে বহু টাকা লোকসান হয় অনেকের। সে কারণে চিংড়ি চাষের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন চাষিরা। জেলা মৎস্যবিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই জেলায় রুই, কাতলা, চিংড়ি বেশি পরিমাণে চাষ হয়। তুলনায় ট্যাংরা মাছ উৎপাদন কম। বিক্ষিপ্তভাবে কিছু জায়গায় কয়েকজন মাছচাষি ট্যাংরা উৎপাদন করেন। তবে সার্বিকভাবে সে সংখ্যা কিছুই নয়। কিন্তু গত কয়েকবছর ধরে ছবিটা পাল্টাচ্ছে। ফলে মৎসজীবীরা বিকল্প মাছচাষের কথা ভাবা শুরু করেন। সুন্দরবনে নোনা জলের ভেড়ির পরিমাণ বেশি। তাই সেখানকার জলাশয়গুলিতে নোনা ট্যাংরা চাষ ভালোভাবে সম্ভব বলে মনে করেন মৎস্যজীবীরা। তারপর পরীক্ষামূলকভাবে চাষ শুরু হয় বাসন্তীতে। তাতে সাফল্য আসতেই একে একে অনেকে ট্যাংরা উৎপাদন শুরু করেন। বর্তমানে প্রায় শ’খানেক মৎস্যজীবী চিংড়ি ছেড়ে ট্যাংরার চাষ করছেন।
তপন মাইতি নামে বাসন্তীর এক মৎস্যজীবী বলেন, ‘আমার প্রায় আট বিঘে জলাশয়ে ট্যাংরার চাষ হচ্ছে। গতবছর বিঘে পিছু ২৪০ কেজির মতো মাছ উৎপাদন হয়েছিল। বাজারে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।’ বাবুলাল বৈদ্য নামে অন্য এক মৎসজীবীর বক্তব্য, ‘ভেনামি চিংড়িতে লোকসানের ঝুঁকি থাকে। কিন্তু নোনা ট্যাংরাতে তা নেই। তাই চিংড়ির উৎপাদন কমিয়ে ট্যাংরামাছকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।। এতে লাভও হচ্ছে বেশি।’ নিজস্ব চিত্র