Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পড়াশোনা প্যাশন হলেই সাফল্য, মত অষ্টম নবমের

পড়াশোনা প্যাশন হলেই সাফল্য, মত অষ্টম নবমের
  • ৩ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: চাপ বা মাথাব্যথা হিসেবে নয়, পড়াশোনাকে প্যাশন করলেই সাফল্য পাওয়া যায়। এমনটাই বলছে মাধ্যমিকে অষ্টম ও নবম স্থানাধিকারী। বর্ধমানের পারবীরহাটার বাসিন্দা পাপড়ি মণ্ডল ৬৮৮ নম্বর পেয়ে রাজ্যে অষ্টম স্থান অধিকার করেছে। সে বিদ্যার্থী ভবন গার্লস হাইস্কুলের ছাত্রী। ৬৮৭ নম্বর পেয়ে নবম হয়েছে বর্ধমানের মিউনিসিপ্যাল বয়েজ হাইস্কুলের পরমব্রত মণ্ডল। দু’জনেই বলছে, ভালো ফল করার জন্য মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করা দরকার। মন দিয়ে কোনও কিছু করতে হলে সেটাকে প্যাশন হিসেবে নিতে হবে। পাপড়ি বলে, ছোট থেকেই পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি গল্পের বই পড়া দরকার। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা প্রিয়। পড়াশোনার জন্য নির্দিষ্ট সময় ছিল না। যখনই ইচ্ছে হতো বই নিয়ে বসে যেতাম। আগামী দিনে কৃষি নিয়ে পড়াশোনা করব। তবে, ফরেস্ট অফিসার হওয়ারও ইচ্ছে রয়েছে। প্রকৃতি সব সময় আমার প্রিয়। বাংলায় ৯৭, ইংরেজিতে ৯৫, অঙ্কে ১০০, জীবন বিজ্ঞানে ৯৯, ভৌত বিজ্ঞানে ৯৮, ভূগোলে ১০০ এবং ইতিহাসে ৯৯ নম্বর পেয়েছে। পাপড়ির মা পূর্ণিমা মণ্ডল গৃহবধূ। বাবা দেবাশিস মণ্ডলের ছোট ব্যবসা রয়েছে। তার মা বলেন, মেয়ে প্রথম থেকেই পড়াশোনায় ভালো। ওর আরও একটু ভালো ফল হওয়ার সম্ভবনা ছিল। যাই হোক কোনও কারণে নম্বর কিছুটা কম এসেছে।বর্ধমানের কলেজ মোড়ের কাছে থাকে পরমব্রত মণ্ডল। পড়াশোনার পাশপাশি তার বাবা পার্থ মণ্ডল রাজ্যের সেচদপ্তরের কর্মী। মা মৌসুমি গৃহবধূ। মেধাবী ওই ছাত্র বলে, সময় বেঁধে কোনওদিনই পড়াশোনা করেনি। তবে প্রতিদিনই নিয়ম করে পড়াশোনা করেছি। এটা আমার কাছে প্যাশন ছিল। পড়াশোনাকে কখনওই মাথাব্যথা হিসেবে ভাবিনি। আপাতত বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করার ইচ্ছে রয়েছে। তার মা বলেন, ছেলেকে পড়াশোনার জন্য চাপ দিইনি। নিজের ইচ্ছেতে পড়তে বসতো। প্রতিদিনই নিয়ম করে পড়তে বসতো। সে ভৌত বিজ্ঞান ও অঙ্কে ১০০ নম্বর পেয়েছে। বাংলায় ৯৮, ইংরেজিতে ৯২, জীবন বিজ্ঞানে, ভূগোল এবং ইতিহাসে ৯৯ নম্বর পেয়েছে। বর্ধমান শহরের বাসিন্দা এই দুই মেধাবীর দাবি, পড়াশোনার জন্য কখনওই বাঁধাধরা সময় থাকা দরকার নেই। বেশি চাপ নিলে ভালো ফল করা যায় না। পড়াশোনাকে প্যাশন হিসেবে নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। অষ্টম স্থানাধিকারী পাপড়ি মণ্ডল বলেন, ছ’জন গৃহশিক্ষক ছিলেন। এছাড়া স্কুল থেকেও অনেক সহযোগিতা পেয়েছি। টেস্টে ফলাফল আর একটু ভালো ছিল। তবে মাধ্যমিকে যে নম্বর পেয়েছি সেটাই যথেষ্ট। আগামী দিনে স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে চাই। বন, জঙ্গল পছন্দের। আগামী দিনে ফরেস্ট অফিসার হয়ে প্রকৃতির আরও কাছাকাছি থাকতে চাই।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ