Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

আদর্শহীন ‘পেটোয়া’দের আধিপত্য বিস্তারেই ক্ষতি হচ্ছে ছাত্র সংগঠনের, চর্চা তৃণমূলের শীর্ষস্তরে

দক্ষিণ কলকাতা ল’কলেজের গণধর্ষণের ঘটনা সামনে আসার পর তোলপাড় শুরু হয়েছে তৃণমূল ছাত্রপরিষদের অন্দরে। প্রাক্তন ছাত্র নেতারা একবাক্যে মানছেন ছাত্র সংগঠনে অধঃপতন বেদানাদায়ক। তবে এই অবস্থা যে হঠাৎ ঘটেছে, এমনটা নয়।

আদর্শহীন ‘পেটোয়া’দের আধিপত্য বিস্তারেই ক্ষতি হচ্ছে ছাত্র সংগঠনের, চর্চা তৃণমূলের শীর্ষস্তরে
  • ২ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দক্ষিণ কলকাতা ল’কলেজের গণধর্ষণের ঘটনা সামনে আসার পর তোলপাড় শুরু হয়েছে তৃণমূল ছাত্রপরিষদের অন্দরে। প্রাক্তন ছাত্র নেতারা একবাক্যে মানছেন ছাত্র সংগঠনে অধঃপতন বেদানাদায়ক। তবে এই অবস্থা যে হঠাৎ ঘটেছে, এমনটা নয়। বছর কয়েক ধরেই এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে। তাতে প্রাক্তন ছাত্র নেতাদের অভিমত,  পেটোয়া ও ধান্দাবাজ তৈরি হয়ে আধিপত্য বিস্তার আর কিছু পাওয়ার চিন্তাধারাই অধঃপতন ঘটিয়েছে ছাত্র সংগঠনে। যে কোনও রাজনৈতিক দলেই ছাত্র শাখা সেই সংগঠনের ‘রক্ত’ বলে চিহ্নিত করা হয়। রাজনৈতিক দলের সংগঠন এগিয়ে চলে ছাত্রদের কাঁধে ভর করেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বিমান বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, অসীম চট্টোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্বরা হলেন ছাত্র রাজনীতির প্রোডাক্ট। একসময় ছাত্রদের আন্দোলন ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিল। যার ইতিহাস বাংলার রাজনৈতিক দলিলে লিপিবদ্ধ। সেখানে দক্ষিণ কলকাতার ল’কলেজে মনোজিৎ মিশ্রর ঘটনা কোনওভাবেই খাপ খায় না।

Advertisement

তৃণমূলের একাধিক নেতা বলছেন, পার্থ চট্টোপাধ্যায় শিক্ষামন্ত্রী থাকাকালীন সময় থেকে ছাত্র সংগঠনে ফাটল ধরতে শুরু করেছে। ২০১৬-১৭ সালে শেষ ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছিল। তারপর থেকে আর ছাত্র সংসদ নির্বাচন নেই। তৃণমূল সূত্রের খবর, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের থিয়োরি ছিল, ছাত্র সংসদ নির্বাচন হলে রক্তপাতের সম্ভাবনা থাকবে। তাই নির্বাচন করার দরকার নেই। এই অবস্থানটা সংগঠনের ক্ষেত্রে ক্ষতি করেছে বলে তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতাদের মত। আর সেই সময় থেকে উঠে এসেছে ‘পেটোয়া ছাত্রদের’ পদপ্রাপ্তি। পরবর্তী সময়ে ওই ছাত্ররাই নিজেদের ‘নেতা’ হিসেবে মনে করে আধিপত্য বিস্তার করতে থাকে। কলেজ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরও সেই আধিপত্য কায়েম রাখতে অনৈতিক পথ বেছে নিচ্ছে অনেকে। বহিরাগতদের এই দাপট ছাত্র সংগঠনে বড়সড় ক্ষতি করেছে বলে মত তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতাদের। বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বহিরাগতদের বিষয়ে কলেজ প্রশাসনের আরও কঠোর হওয়া উচিত। বহিরাগতদের অনুমতি নিয়ে কলেজে ঢুকতে হবে, এই নির্দেশ জারি হোক।
তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় বলেন, অনেক ছাত্র নেতাই নিজেদের কেউকেটা ভাবছেন। বড় গাড়ি চড়ে ঘুরব, সঙ্গে চারজন টেনিয়া থাকবে, নিজেকে জাহির করার প্রবণতা দেখা গিয়েছে। আর একটা ট্রেন্ড হয়ে গিয়েছে গলায় সোনার চেন ঝোলানো। ছাত্র নেতারা যদি আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে যান, সেটা খুব খারাপ। ভুষিদের  ছাত্র নেতা করা যায় না। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রাক্তন সভাপতি অশোক রুদ্র বলেন, ছাত্র সংগঠনে নিজের মূল্যবোধ থাকা উচিত। এখন যাঁরা নিজেদের নেতা মনে করছেন, তাঁদের অনেকেই ছাত্র রাজনীতি করেননি। সুবর্ণ সময়ে তাঁরা আছেন। অনেককেই ধরে এনে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার উপর চারিত্রিক অবক্ষয় তো রয়েছেই। 
তৃণমূল ছাত্র পরিষদের রাজ্য সভাপতি পদে এখন আছেন তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য। ২০১৮ সাল থেকে তিনি ওই পদে। তাঁর আমলে ছাত্র সংগঠনে কতটা উন্নতি হয়েছে, সেটা নিয়েও দলের অভ্যন্তরে প্রশ্ন উঠেছে। সূত্র মারফত খবর, দক্ষিণ কলকাতা ল’কলেজে মনোজিত মিশ্রকে ২০১৮ সালে কলেজ থেকে বের করে দিয়েছিলেন তৎকালীন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের রাজ্য সভানেত্রী জয়া দত্ত। তারপর থেকে কলেজে সে ঢুকতে পারত না। কিন্তু সেই মনোজিৎ কীভাবে ২০২২-২৩ সাল ল‘কলেজের ছাত্র পরিসরের ‘নিয়ন্ত্রক’ হয়ে উঠল, সেটাও দলীয় স্তরে তদন্ত করা উচিত বলে মনে করছেন তৃণমূল শীর্ষ নেতাদের একাংশ।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ