


মস্কো ও নয়াদিল্লি: বুধবার ভোর। ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশ। রিখটার স্কেলে মাত্রা ৮.৮। তীব্র অস্থিরতা প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় মেখলায়। রাশিয়ার পূর্বভাগে কামচটকা উপকূলে প্রবল কাঁপুনির জেরে রাশিয়া সহ একাধিক দেশে আছড়ে পড়ে সুনামির ঢেউ। জাপান, চীন, হাওয়াই, মেক্সিকো থেকে শুরু করে সুদূর আলাস্কার উপকূলেও বড় বড় ঢেউ দেখা গিয়েছে। সুনামি সতর্কতা জারি হয়েছিল আমেরিকাতেও। ওয়াশিংটন, ওয়েগন ও ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলবর্তী অঞ্চলে সমুদ্র ফুঁসে উঠেছে।
ভূমিকম্পের পরই সুনামি সতর্কতার জেরে বিভিন্ন দেশেই তীরবর্তী অঞ্চল থেকে স্থানীয়দের সুরক্ষিতস্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সতর্কতা জারি হয়েছিল, পাপুয়া নিউগিনি, সলোমন দ্বীপ ও ভানুয়াতুতেও। একাধিক দেশে সুনামি আছড়ে পড়লেও কোথাও বড় কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি। রাশিয়াতে বেশ কয়েকজন জখম হয়েছেন। যদিও সরকারিভাবে কোনও হিসেব দেওয়া হয়নি। জাপানেও অন্তত একজন আহত হয়েছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তীব্রতার নিরিখে রাশিয়ার এই ভূমিকম্প ষষ্ঠস্থানে। ১৯৬০ সালে চিলিতে ৯.৫ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল। এখনও পর্যন্ত এটাই সবচেয়ে তীব্র ভূকম্প।
রাশিয়ার পূর্ব প্রান্তের কামচটকা উপদ্বীপের পেত্রোপাভলভস্ক থেকে ১৩৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এবং ১৯.৩ কিলোমিটার গভীরে ছিল ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল। কম্পনের পরই ফের জেগে উঠল কামচটকার ক্লিচেভস্কয় সোপকা আগ্নেয়গিরি। আগ্নেয় মেখলা অঞ্চলে অস্থিরতার জেরে একাধিক দেশে আছড়ে পড়তে থাকে সুনামির ঢেউ। হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের উপকূলে ঢেউয়ের উচ্চতা ছিল প্রায় ১০ ফুট। কামচটকাতে ৩-৪ মিটার (১০ থেকে ১৩ ফুট)। জাপানের উত্তরভাগে দ্বীপ হোক্কাইডোতে ২ ফুট ও আলাস্কার অ্যালেউস্টিয়ান দ্বীপপুঞ্জে দেড় ফুট উচ্চতার ঢেউ তৈরি হয়েছিল।
এদিন সুনামি সতর্কতার জেরে জাপানে তুমুল আতঙ্ক তৈরি হয়। ২০১১ সালে ভূমিকম্প ও সুনামির জেরে উপকূলবর্তী এলাকায় পরমাণু কেন্দ্রে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। এবারও কম্পনের মাত্রা অনেকটা বেশি হওয়ায় পরমাণু কেন্দ্র নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। যদিও শেষপর্যন্ত ফুকুশিমা পরমাণুকেন্দ্র কোনও ঝুঁকির মুখে পড়েনি। এদিকে, সুনামি সতর্কতার জেরে সানফ্রান্সিকোতে বসবাসকারী ভারতীয়দের সতর্ক করে দেয় দূতাবাস। তারা জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চল এড়িয়ে চলতে হবে। সম্ভব হলে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিতেও বলা হয়। বেশিরভাগ জায়গাতেই পরে সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
ইতিমধ্যে বিপর্যয়ের কিছু খণ্ডচিত্র সামনে এসেছে। রাশিয়ার পেত্রোপাভলভস্কের একটি হাসপাতালে এক রোগীর অস্ত্রোপচার চলছিল। সেই সময় ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে হাসপাতাল। ওই অবস্থায় ভয় না পেয়ে রোগীকে জড়িয়ে ধরে অস্ত্রোপচার চালিয়ে যান চিকিৎসকরা। এছাড়া, ঘরবাড়ি, গাড়ি দুলে ওঠা, রাস্তায় ফাটলের মতো একাধিক ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় সামনে এসেছে। জাপানে সুনামির ঢেউয়ে একটি বিশাল তিমি উপকূলে ভেসে আসে।