নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বৃহস্পতিবারের ধর্মঘটে হয়রানির শিকার হলেন ব্যাংক গ্রাহকরা। কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলি এদিন দেশজুড়ে যে ধর্মঘটের ডাক দেয়, তাতে অংশ নিয়েছিল ব্যাংকের কর্মী ও অফিসারদের একাধিক সংগঠন। ওই কারণে এদিন ব্যাংক শাখাগুলির বেশিরভাগ বন্ধ ছিল। ধর্মঘটের আংশিক প্রভাব পড়েছিল স্টেট ব্যাংকের (এসবিআই) শাখাগুলিতে। ফলে গ্রাহকদের অধিকাংশই ব্যাংকে গিয়ে লেনদেন করতে পারেননি। আংশিক প্রভাব ছিল এটিএমগুলিতেও। কোথাও গ্রাহক টাকা পেয়েছেন, কোথাও আবার একটি এটিএমে টাকা না পেয়ে অন্যকোনোটিতে টাকার সন্ধান করেছেন তাঁরা। দেশে সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হলেও বাংলায় তা পালিত হয়নি। কারণ এখানে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা চলছে। এই কারণে বাংলায় ধর্মঘট পালিত হয়েছে শুধুমাত্র শিল্পক্ষেত্রে। ছাড় দেওয়া হয়েছিল গণপরিবহণে। এদিন সিআইটিইউর সাধারণ সম্পাদক এলামারাম করিম ধর্মঘট সফল করার জন্য দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি জানান, দেশজুড়ে কয়লা, রেল, বিদ্যুত্, পেট্রলিয়াম, বন্দর, বিমা-ব্যাংকিং প্রভৃতি ক্ষেত্রে বিপুল সাড়া মিলেছে। হিমাচল প্রদেশ, ওড়িশা, ছত্তিশগড়, তেলেঙ্গানা, পাঞ্জাব, কেরল, কর্ণাটক, পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্যের শ্রমিকরা যোগ দিয়েছিলেন। এদিন বিকেলে সিআইটিইউ নেতা অনাদি সাহু এবং জিয়াউল আলম বলেন, শিল্প ধর্মঘট সফল ও সর্বাত্মক হয়েছে। চটকলগুলির পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের চা বাগানে সাড়া মিলেছে ব্যাপক। এমনকি, তথ্য-প্রযুক্তি ও গিগ শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও অল্প হলেও সাড়া পাওয়া গিয়েছে। সেদিক থেকে রাজ্য বিদ্যুত্ দপ্তরে ধর্মঘটের সাড়া পড়েনি। এদিন রাজ্যের পাঁচ জায়গায় পুলিশের সঙ্গে ধর্মঘটীদের বচসা বাধে। রাজ্যজুড়ে প্রায় ১০০ জন ধর্মঘটীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কলকাতায় এআইইউটিইউসি একটি মিছিল করে। সমস্ত সংগঠনের মিলিত মিছিল হয় দুপুরে শিয়ালদহে।



