Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

ফ্রান্সের আজব ঘড়ি

সময় সত্যিই বহমান নদীর মতো। কারও জন্য থেমে থাকে না। দেখতে দেখতেই যেন কেটে যায় দিনের ২৪ ঘণ্টা।

ফ্রান্সের আজব ঘড়ি
  • ৫ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সময় সত্যিই বহমান নদীর মতো। কারও জন্য থেমে থাকে না। দেখতে দেখতেই যেন কেটে যায় দিনের ২৪ ঘণ্টা। আরও একটু বেশি সময় পেলে মন্দ হতো না, এই ভাবনা হয়তো প্রত্যেকের মনেই আসে। আচ্ছা, ২৪ ঘণ্টার পরিবর্তে গোটা দিনকে যদি দশ ঘণ্টার দু’টি ভাগে ভাগ করা হয়? আজ থেকে প্রায় আড়াইশো বছর আগে এমনটাই হয়েছিল ফ্রান্সে। ভাবা হয়েছিল, এই পদ্ধতিতে হিসেবনিকেশ নাকি অনেক সহজ হবে। তবে শুধু ঘণ্টা নয়। মিনিট, সেকেন্ড, মাসের তালিকাও বদলে গিয়েছিল। মনে করা হয় বর্তমানে ৬০ সংখ্যাটি ধরে সময় মাপার সূচনা হয়েছিল সুমেরিয়ান সভ্যতায়। পরে ব্যাবিলনীয় সভ্যতার সাহায্যে সেটি পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশ পায়। তবে আঠারো শতকে এই হিসেব নিয়ে আপত্তি তোলেন ফ্রান্সের কয়েকজন। জঁ লে রন্ড অ্যালেম্বার্ট মনে করলেন, সময়ের প্রতিটি একক ১০ দিয়ে বিভাজ্য হওয়া উচিত। সময়টা ১৭৫৪। তবে প্রস্তাব পেশ হলেও এবিষয়ে কেউই তেমন উৎসাহ দেখাননি সেসময়। পরে আবার এই তত্ত্ব সামনে আনলেন ক্লদে বোনিফেস। তিনি জানালেন, গোটা দিনকে ১০ ঘণ্টার দু’টি অর্ধে ভাগ করতে হবে। প্রতি ঘণ্টা হবে ১০০ মিনিটের। প্রতি মিনিটে থাকবে ১০০০ সেকেন্ড। সাতদিনের বদলে সপ্তাহ হবে ১০ দিনের। বোনিফেসের এই ভাবনাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যান জঁ চার্লস দে বোর্দা। শেষমেশ ১৭৯৩ সালের ২৪ নভেম্বর চালু হয় ২০ ঘণ্টার দিন। নাম ‘ডেসিমাল টাইম’। শুরুতে সমস্যা হলেও পরে এই ‘ডেসিমাল’ হিসেব পদ্ধতির সঙ্গে মানিয়ে নেয় ঘড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় মাসের তালিকা। চালু হয় ‘ফ্রেঞ্চ রিপাবলিকান ক্যালেন্ডার’। তবে সময়ের এই আজব হিসেবের জাঁতাকলে বেজায় চটে গেলেন কারখানার শ্রমিকরা। কারণ ন’দিন কাজ করলে তবে মোটে একদিন ছুটি মেলে যে! তাই চালু হওয়ার মাত্র ১৭ মাসের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় এই সময়ের আজব হিসেব। বাতিল হয়ে যায় ওই সময়ের হিসেবে তৈরি ঘড়িও।  সময় বদলানো তো আর সহজ ব্যাপার নয়!

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ