


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: শেয়ার বাজারে হঠাৎ ধস। সোমবার এক সময় ৮০০ পয়েন্ট কমে যায় সেনসেক্স। অবশেষে যখন বন্ধ হল বাজার, তখন কিছুটা সামলে নিলেও ৬১০ পয়েন্ট কমই রইল। শেয়ারবাজারে ওঠানামা নতুন কিছু নয়। কিন্তু অর্থমন্ত্রকে সোমবার ব্যতিক্রমী এক উদ্বেগ চোখে পড়ল। সবেমাত্র রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নীতি নির্ধারণ কমিটি রেপো রেট কমিয়ে ৫.২৫ শতাংশ করেছে। যা শিল্পহমলের কাছে আশাব্যঞ্জক বার্তা। এমনকি এই প্রবণতা আপাতত চলবে বলেও আভাস দিয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। সাড়ে ৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬০ বেসিস পয়েন্ট পর্যন্ত হার কমিয়ে দেওয়া হবে ধীরে ধীরে। কিন্তু এই ইতিবাচক বার্তা পেয়েও কেন শেয়ার বাজারে ধস! সবথেকে উদ্বেগজনক হল, কমবেশি প্রতিটি সেক্টরের শেয়ার দর কমেছে এদিন। সবথেকে অপ্রত্যাশিত হল সরকারি ব্যাঙ্কগুলির শেয়ারের দর কমে যাওয়া। অনেকদিন হয়েছে যখন শেয়ারবাজারে বড়সড় ধসও হলেও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের পারফরম্যান্সে সেভাবে বিরূপ প্রভাব পড়েনি। সেটা এবার হওয়ায় উদ্বেগ বেড়েছে অর্থমন্ত্রকের। আর এই আচমকা ধসের কারণে লগ্নিকারীদের ৭ লক্ষ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। অন্যতম কারণ হিসেবে বাণিজ্য মহল বলেছে, টাকার পতন। ৪ ডিসেম্বর এক ডলারের বিনিময় মূল্য হয়ে যায় ৯০ টাকা ৪৬ পয়সা। সর্বকালীন পতন শুধু নয়। একবার ৯০ টাকার ঘর স্পর্শ করলে তার একটি মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব পড়ে দেশি ও বিদেশি লগ্নিকারীদের উপর। আর তার জেরে বিদেশি আর্থিক সংস্থাগুলি অর্থ শেয়ারবাজারে নিয়ে আসতে ভয় পায়। যেমন এদিনও টাকার দর ফের ৯০ ছাড়িয়েছে।আগামী কাল মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক রেপো রেট ঘোষণা করবে। সম্ভবত ২৫ বেসিস পয়েন্ট কমে যেতে পারে। আর তাহলে অর্থলগ্নিকারী সংস্থাগুলি ভারতীয় বাজার থেকে অর্থ প্রত্যাহার করবে বিপুল অঙ্কে। ভারত ও মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি একপ্রকার থমকে আছে। এতদিন উভয় সরকারই বলে এসেছে যে, চুক্তি হবে শীঘ্রই। আলোচনা চলছে। এখন আর সেই বিবৃতিও আসছে না। এই সামগ্রিক ফ্যাক্টরের কারণেই শেয়ার বাজারে আচমকা ধাক্কা লেগেছে বলে মনে করা হচ্ছে।