নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘পথশ্রী-রাস্তাশ্রী ৪’ প্রকল্পের অধীনে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে ২০ হাজার ৩০ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কার। এর মধ্যে ১৫ হাজার কিলোমিটার রাস্তার কাজ হচ্ছে গ্রামীণ এলাকায়। দায়িত্বে রয়েছে পঞ্চায়েত দপ্তর। এই প্রকল্পকে পরিবেশবান্ধব করে তুলতে বর্জ্য প্লাস্টিক ব্যবহার করে প্রায় দু’হাজার কিলোমিটার (১৭৫৯.৬২ কিলোমিটার) রাস্তা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে দপ্তর। ২২টি জেলার ৮৫০টি গ্রাম পঞ্চায়েতে হবে এই ধরনের রাস্তা। এই পঞ্চায়েতগুলিতে অন্তত একটি করে প্লাস্টিকের রাস্তা তৈরির টার্গেট নেওয়া হয়েছে।
‘নির্মল বাংলা’ প্রকল্পের আওতায় কঠিন বর্জ্য থেকে প্লাস্টিক পৃথক করে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার শুরু করেছে রাজ্য। পঞ্চায়েত এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংগৃহীত বর্জ্য প্রথমে রাজ্যের ৩০০০টি সেগ্রিগেশন ইউনিটে এনে প্লাস্টিক আলাদা করা হয়। সেই প্লাস্টিক চলে যায় রাজ্যেরই ১০০টি প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রে। যেখানে সেগুলিকে টুকরো বা গ্র্যানিউলে বদলে ফেলা হয়। মূলত প্লাস্টিকের চেয়ার, টেবিল ইত্যাদি আসবাব তৈরির ক্ষেত্রে এই গ্র্যানিউল ব্যবহার করা হয়। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের টুকরো ব্যবহার হয় পিচের সঙ্গে মিশিয়ে রাস্তা তৈরির কাজে। এক্ষেত্রে প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রে ২.৩৬ মিলিমিটার মাপে প্লাস্টিক টুকরো করে পাঠানো হয়। একটি এক কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের তিন মিটার চওড়া রাস্তা তৈরি করতে ৪,৩০০ কেজি পিচের প্রয়োজন পড়ে। যেসমস্ত রাস্তা প্লাস্টিক মিশিয়ে হয়, সেখানে পিচের ব্যবহার কমিয়ে ছয় থেকে আট শতাংশ প্লাস্টিক গ্র্যানিউল ব্যবহার করা হয়। এভাবে ইতিমধ্যেই রাজ্যের ৫০০টি গ্রাম পঞ্চায়েতে মোট ৭৩০ কিলোমিটার রাস্তা প্লাস্টিক ব্যবহার করে তৈরি হয়েছে। এই প্রকল্প নিয়ে একাধিক কর্মশালাও করেছেন দপ্তরের মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার এবং পদস্থ কর্তারা। রাজ্যের পঞ্চায়েত প্রতিমন্ত্রী বেচারাম মান্না বলেন, ‘আমরা সবাই জানি যে মূলত সিঙ্গল ইউজ প্লাস্টিক প্রকৃতির কতটা ক্ষতি করছে। প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এর হাত থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতেই আমাদের লড়াই।’ রাজ্যের এক পদস্থ কর্তা জানিয়েছেন, এই পদ্ধতিতে প্লাস্টিকের টুকরো ১৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পিচের সঙ্গে মিশিয়ে রাস্তা তৈরি করা হয়। এর ফলে রাস্তার স্থায়িত্ব যেমন বাড়ে, তেমনই জলরোধী ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। সূত্রের খবর, রাজ্যের ৩,৩৩৯টি গ্রাম পঞ্চায়েতেই অন্তত একটি করে এমন রাস্তা তৈরির টার্গেট নেওয়া হয়েছে। ‘পথশ্রী-রাস্তাশ্রী ৪’ প্রকল্পের কাজ শেষ হলেই ১,৫৮০টি পঞ্চায়েতে একটি করে ‘প্লাস্টিক রোড’ হয়ে যাবে। পরবর্তী আর কয়েক মাসের মধ্যে বাকি পঞ্চায়েতগুলিতেও এমন রাস্তার কাজ সম্পূর্ণ হয়ে যাবে বলেই মনে করছে রাজ্য প্রশাসন।