


নিজস্ব প্রতিনিধি, কল্যণী ও দক্ষিণেশ্বর: এইমস কল্যাণীর প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠান। হাজির স্বয়ং রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। উপস্থিত রাজ্য ও কেন্দ্রের একাধিক মন্ত্রী। নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ। কিন্তু সেই অনুষ্ঠানেও মিশে গেল রাজনীতি! রাজ্য ও কেন্দ্রের মন্ত্রীরা যে যাঁর সরকারের কৃতিত্ব তুলে ধরতে উদগ্রীব হয়ে পড়লেন। মানুষকে সুষ্ঠু চিকিৎসা পরিষেবা দিতে কোন সরকার কতটা উদ্যোগী হয়েছে, কী তাদের অবদান, মন্ত্রীরা একে একে তুলে ধরলেন সেই ফিরিস্তি। যদিও রাষ্ট্রপতির ভাষণে উঠে এল কল্যাণীর ইতিহাস, বিধানচন্দ্র রায় ও সহ বাংলার মনীষীদের প্রসঙ্গ, এমবিবিএস উত্তীর্ণ চিকিৎসকদের শুভেচ্ছা ও উৎসাহ প্রদান। কিন্তু দুই সরকারের মন্ত্রীদের বক্তব্যের মূল ভিত্তিই ছিল আম আদমির জন্য স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় তাঁদের সরকারের ‘অবদান’। শুধু তাই নয়, নিজের বক্তব্যের শুরু ও শেষে বাংলা বলে বাঙালি ভাবাবেগ নিয়ে চলতি রাজনীতিও উস্কে দিলেন বাংলার স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।
২০১৯ সালে পথ চলা শুরু করে এইমস কল্যাণী। বুধবার ছিল প্রথম সমাবর্তন। সেখানে রাষ্ট্রপতি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস, কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর ও স্বাস্থ্যমন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতাপরাও গণপতরাও যাদব। রাজ্য সরকারের তরফে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। প্রথম এমবিবিএস ব্যাচের ৪৮জন চিকিৎসক পড়ুয়া এবং ৯ জন পিডিসিসি স্কলারকে সংবর্ধিত করা হয়। প্রথম তিন স্থানাধিকারীকে পদক তুলে দেন রাষ্ট্রপতি। এছাড়াও ‘সেরা উত্তীর্ণ ছাত্র’ হিসেবে বিশেষ সম্মান পেয়েছেন দ্বিতীয় স্থানাধিকারী কলরব মুখোপাধ্যায়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ২০১১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্যক্ষেত্রের কাজগুলির ধারাবিবরণী দেন। ডাক্তারি পড়ার জন্য উল্লেখযোগ্য হারে আসন বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসাথী থেকে শুরু করে রাজ্য সরকার পরিচালিত ২৪টি মেডিক্যাল কলেজের মাধ্যমে বাংলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় যে আমূল পরিবর্তন ঘটেছে, তার বিবরণ তুলে ধরেন তিনি। এই বৃত্ত সম্পূর্ণ হয়, যখন আয়ূষ মন্ত্রকের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী প্রতাপরাও গণপতরাও যাদব বক্তব্য শুরু করেন মোদি সরকারের ঢালাও এইমস তৈরির উদাহরণ টেনে। প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য সুরক্ষা যোজনা, আয়ুষ্মান ভারতের মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির সাফল্য তুলে ধরেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীকে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের জন্য দরাজ সার্টিফিকেট দিয়ে তিনি বলেন, ‘গত ১০ বছরে দেশে নতুন ১৫টি এইমসের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় নবজোয়ার এসেছে।’
তবে রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে এসবের আঁচ ছিল না। তাঁর ভাষণে বিধানচন্দ্র রায়, বাঘাযতীন, দীনবন্ধু মিত্রের মত বিশিষ্ট বাঙালিদের স্মরণ করেন তিনি। তাঁদের কর্মকাণ্ড উদ্ধৃত করে সংবর্ধিত পড়ুয়াদের সাধারণ মানুষের জন্য আত্মনিয়োগের আবেদন করেন। সমাবর্তন শেষে রাষ্ট্রপতি দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে যান। সেখানে তিনি মা ভবতারিণীর পুজো দেন, ধুপ-আরতি করেন। মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১৯৫২ সালে দেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদের পর দ্বিতীয় কোনও রাষ্ট্রপতি এখানে এলেন। তবে, এইমসের আউটডোরের একটিমাত্র গেট খোলা থাকায় সমস্যায় পড়েন রোগীরা।